আগামীকাল ৩ জানুয়ারি শনিবার থেকে শুরু হচ্ছে মাসব্যাপী ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। পূর্বাচল উপশহরের ৪নম্বর সেক্টরের বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে সকাল ১০টায় মেলার উদ্বোধন করবেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এবারের মেলায় ১১টি বিদেশীসহ ৩২৪টি স্টল ও প্যাভিলিয়ন রয়েছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুারোর(ইপিবি) সচিব তরফদার সোহেল রহমান বলেন, এবারের বাণিজ্য মেলায় মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী এবং জুলাই আহতগণ পরিচয়পত্র প্রদর্শনপূর্বক বিনামূল্যে মেলায় প্রবেশ করতে পারবেন। সাধারণ টিকিটের মূল্য জনপ্রতি ৫০টাকা, ১২ বছর বয়সের নীচে শিশুদের ২৫টাকা। বাণিজ্য মেলার প্রস্তুতি সম্পন্ন। মেলার ক্রেতা-বিক্রেতা ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। এজন্য নয় শতাধিক পুলিশসহ পর্যাপ্ত সংখ্যক আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, র‌্যাব, গোয়েন্দা সংস্থাসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত থাকবে।
তিনি বলেন, বাণিজ্য মেলার ক্রেতা-দর্শনার্থীদের আসা-যাওয়ার সুবিধার্থে বিআরটিসির ডেডিকেটেড বাস সার্ভিস। মেলায় ই-টিকেটিং এর ব্যবস্থা করা হয়েছে। ব্যাংকিং সার্ভিসের জন্য মেলায় থাকবে পর্যাপ্ত সংখ্যক এটিএম বুথ। মা ও শিশুদের জন্য মেলায় থাকবে মা ও শিশু কেন্দ্র। এছাড়া রক্ত সংগ্রহ কেন্দ্র, মসজিদ, দর্শনার্থীদের বিশ্রামের জন্য আরামদায়ক ও শোভন চেয়ার/বেঞ্চ, সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য সিটিং কর্ণার ইত্যাদির ব্যবস্থা করা হয়েছে।
মেলায় সাধারণ দর্শনার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে কুড়িল বিশ্বরোড, ফার্মগেট (খেজুর বাগান/খামার বাড়ী), নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদী হতে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বাণিজ্য মেলার উদ্দেশ্যে বিআরটিসির ২০০টির বেশি ডেডিকেটেড শাটল বাস চলবে।
‎ প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত, তবে সাপ্তাহিক ছুটির দিন রাত ১০টা পর্যন্ত মেলা চলবে। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, হংকং ও মালয়েশিয়ার ১১টি প্রতিষ্ঠান এবারের মেলায় অংশগ্রহণ করছে।

বিদেশী উদ্যোক্তা/প্রতিষ্ঠানের সুবিধার্থে থাকছে ইলেক্ট্রনিক্স ও ফার্নিচার জোন। সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য তৈরি করা হয়েছে সিটিং কর্ণার। শিশুদের নির্মল চিত্তবিনোদনের জন্য মেলায় থাকছে ২ টি শিশু পার্ক। পণ্য প্রসার ও বিপণনের জন্য মেলায় থাকছে উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। মহিলা, প্রতিবন্ধী, কুটির/তাঁত/বস্ত্র/হস্ত শিল্পের উদ্যোক্তাদের সংরক্ষিত স্টল বরাদ্দ দেয়া ‎হয়েছে।
‎এবারের মেলায় পলিথিন ব্যাগ এবং সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিকল্প হিসেবে হ্রাসকৃত মূল্যে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরিবেশ বান্ধব ব্যাকের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ‎সিসিটিভি স্থাপন করা হয়েছে। অগ্নি দুর্ঘটনা প্রতিরোধে মেলায় সার্বক্ষণিক নিয়োজিত থাকবে ফায়ার ব্রিগেড। ‎পরিস্কার- পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য দুই শতাধিক পরিচ্ছন্নতা কর্মী সার্বক্ষনিক নিয়োজিত থাকবে। মেলায় খাদ্য দ্রব্যের মান নিয়ন্ত্রণের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্টেট এর নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যসহ গঠিত টিম মেলা চলাকালীন প্রত্যহ ভেজাল বিরোধী মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবে।

মেলায় আগত দর্শনার্থীদের জন্য সার্বক্ষণিক চিকিৎসক ও পেসেন্ট কেয়ার এটেনডেন্ট উপস্থিত থেকে ফ্রি প্রাথমিক চিকিৎসা ও চিকিৎসা পরামর্শ প্রদান করবে। মেলার থাকবে পর্যাপ্ত কার পার্কিং সুবিধা। ৫ শতাধিক গাড়ি পার্কিং সুবিধাসংবলিত দ্বিতল কার পার্কিং বিল্ডিং ছাড়াও এক্সিবিশন হলের বাইরে ৬ একর জমিতে এবং রাজউক এর গরুর হাট মাঠসহ ০৩টি বিস্তর পার্কিং এর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}