ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় বহুকাল পর আবারও দেখা মিলল আদি গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী পালকিতে চড়ে বিয়ের দৃশ্য। বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলা জুড়ে পালকির বহরের জারি-সারি গান ও ঢাকের তালে মুখর হয়ে ওঠে গ্রাম্য জনপথ। পালকির ভেতরে বসে বিয়ের সাজে সজ্জিত বর-কণেকে এক নজর দেখতে রাস্তার দুই পাশে ভিড় জমায় উৎসুক জনতা।
পালকির সামনে ও পেছনে ভার বহনকারী লোকজনের সারিবদ্ধ চলাচল, সঙ্গে বরযাত্রীদের নাচনভঙ্গি ও গান যেন দীর্ঘদিন পর গ্রাম বাংলার হারিয়ে যাওয়া সংস্কৃতিকে নতুন করে জাগিয়ে তোলে। পালকি বহরের পিছু পিছু ছুটে চলে শিশু-কিশোর ও কিশোরীরা। পুরো পথজুড়ে উৎসবের আমেজে শিহরিত হয়ে ওঠে গ্রাম।
জানা যায়, চরভদ্রাসন উপজেলার সদর ইউনিয়নের এমপি ডাঙ্গী গ্রামের শেখ ইউনুচের ছেলে প্রবাসী মনির হোসেন দেশে ফিরে পার্শ্ববর্তী সদরপুর উপজেলার মনিকোঠা গ্রামে বিয়ে করেন। বর-কণের বাড়ির দূরত্ব প্রায় ৯ কিলোমিটার। আধুনিক গাড়িবহর পরিহার করে নববধূকে আনতে বরযাত্রীরা পালকির বহর নিয়েই হাজির হন শ্বশুরালয়ে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বাংলা সংস্কৃতি অনুরাগী বর মনির হোসেন মাদারীপুর জেলা থেকে ২৪ হাজার টাকায় একটি ঐতিহ্যবাহী পালকির বহর ভাড়া করে আনেন। পালকির সঙ্গে ছিল একটি ডাক দল। পালকির ভেতরে বসে বর-কণে বিয়ের সাজে সজ্জিত ছিলেন। দীর্ঘ ৯ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে পালকি বহর কয়েক দফায় যাত্রা বিরতি দেয়।
বরের বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছালে জারি-সারি গান ও ঢাকের তালে পুরো বিয়ে বাড়ি উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। এ সময় আমন্ত্রিত নারী অতিথিরা ধান, দুবলা ও সাজানো কুলা হাতে নিয়ে রাস্তায় নেমে নববধূকে বরণ করে নেন। প্রায় ১৫ মিনিট ধরে বরণ শেষে নববধূকে শূন্যে তুলে বাসর ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়।
পালকিতে চড়ে বর-কণের বিয়ে যেন পুরো গ্রামকে টেনে নেয় এক অনাবিল আনন্দের উৎসবে। বর মনির হোসেন বলেন, “আমি বাংলা সংস্কৃতি ভালোবাসি। গ্রাম বাংলার আদি ঐতিহ্য ধরে রাখতেই পালকিতে করে নববধূকে বাড়িতে এনেছি।”
এই ব্যতিক্রমী বিয়ের আয়োজন স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক প্রশংসা ও আগ্রহের সৃষ্টি করেছে।