নড়াইলের মধুচাষিরা লোকসানের মুখে। নড়াইলে অতিরিক্ত শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে মধু উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তীব্র ঠান্ডায় দিনের বেলাতেও মৌমাছি বাক্স থেকে বের হতে পারছে না। ফলে বাইরে থেকে মধু সংগ্রহ কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে জানান, গত কয়েক দিন ধরে নড়াইলে শীতের তীব্রতা বাড়ার পাশাপাশি হিমেল হাওয়া ও ঘন কুয়াশা দেখা দিয়েছে। এর প্রভাবে শুধু জনজীবনই নয়, স্থবির হয়ে পড়েছে কৃষি উৎপাদনও। খামারিরা জানান, মৌমাছিরা বাইরে গিয়ে মধু সংগ্রহ করতে না পেরে উল্টো আগে থেকে জমিয়ে রাখা মধু খেয়ে ফেলছে। এতে বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কায় রয়েছেন চাষিরা।

আবহাওয়া এমন থাকলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন। সরেজমিনে নড়াইল সদর উপজেলার বিভিন্ন বিল এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সরিষা ফুল থেকে মধু সংগ্রহের জন্য শত শত বাক্স বসানো হয়েছে। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে বাক্সগুলোর বাইরে মৌমাছির আনাগোনা নেই বললেই চলে। মধুচাষি মো. শম্পি সরদার বলেন, ‘সারাদিন কুয়াশা থাকায় মৌমাছি বাক্স থেকে বের হচ্ছে না। অধিক পরিমাণে মধু সংগ্রহের জন্য রোদ ও কুয়াশার সামঞ্জস্য থাকা জরুরি। সাধারণত রাতে কুয়াশা আর দিনে রোদ থাকলে মধু সংগ্রহ বেশি হয়।’ আরেক চাষি মো. শহিদুল ইসলাম জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে এ বছর মধু উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক কম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সামনের দিনগুলোতে আবহাওয়া অনুকূলে না এলে এই সংকট আরও ঘনীভূত হবে। খামারি মো. ইনামুল হক বলেন, ‘ঘন কুয়াশায় মৌমাছি অলস হয়ে বাক্সে বসে থাকে।

বের হলেও সংখ্যায় তা খুবই সামান্য। ফলে জীবন বাঁচাতে মৌমাছিরা জমানো মধু খেয়ে ফেলছে। এছাড়া অতিরিক্ত ঠান্ডায় অনেক মৌমাছি মারাও যাচ্ছে।’ নড়াইল জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. বলেন, ‘প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে মধু উৎপাদন কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। তবে আমরা আশা করছি এ বছর জেলায় ১০ মেট্রিক টন বা তার বেশি মধু উৎপাদিত হবে। আমরা চাষিদের খাঁটি মধু উৎপাদনে প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। উজ্জ্বল রায়, জেলা প্রতিনিধি নড়াইল থেকে।

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}