ফ্যাসিবাদী কায়দায় বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের তিন কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে—এমন দাবি করে ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে সংগঠনটির রাজশাহী মহানগর নেতৃবৃন্দ। একই সঙ্গে গ্রেপ্তারকৃত শ্রমিক কর্মীদের সসম্মানে মুক্তির দাবি জানানো হয়েছে।

জামায়াতে ইসলামী সহযোগী সংগঠন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের রাজশাহী মহানগর সভাপতি অধ্যাপক আব্দুস সামাদ ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, রাজপাড়া থানা পুলিশ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের তিন কর্মী—বাধন চান সওদাগর (৩৫), বিদ্যুৎ হোসেন (৩৭) ও সাজ্জাদ হোসেন মুরাদকে (২৮)—নিজ নিজ বাসা থেকে তুলে নিয়ে যায়। পরে একটি সাজানো নাটকের মাধ্যমে অস্ত্র উদ্ধারের ছদ্মকাণ্ড দেখিয়ে তাদের বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতির মামলা দেওয়া হয়েছে।

নেতৃবৃন্দ বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে কিছু মহলের প্ররোচনায় এ ধরনের ন্যাক্কারজনক নাটক সাজানো হয়েছে। সাহেব বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং অন্যায়ের প্রতিবাদ করাটাই কি তাদের অপরাধ—এ প্রশ্নও তোলেন তারা। বিবৃতিতে অতীতেও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের অভিযোগে ফেডারেশনের কর্মীদের গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের কথা উল্লেখ করা হয়।

তারা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, একজন জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধার সঙ্গে এ ধরনের ফ্যাসিবাদী আচরণ বন্ধ করে শ্রমিক কর্মীদের সসম্মানে মুক্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, গত ৯ জানুয়ারি দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে রাজপাড়া থানাধীন নতুন বিলশিমলা বন্ধগেট এলাকায় আজগর আলীর মোটরসাইকেল গ্যারেজসংলগ্ন একটি ফাঁকা জায়গা থেকে ডাকাতির প্রস্তুতির অভিযোগে সেনাবাহিনী তিনজনকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করে। পরে তাদের রাজপাড়া থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হলে ডাকাতির প্রস্তুতির মামলা দিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। পুলিশের দাবি অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃত বাধন চান সওদাগরের বিরুদ্ধে ১৯টি মামলা রয়েছে এবং তিনি শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ৩ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি।

এ ঘটনার প্রতিবাদে রোববার (১১ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় নগরীর অলকার মোড়ে অবস্থিত রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়ন কার্যালয়ে গ্রেপ্তারকৃতদের পরিবারের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল্লাহ আল মাসুম।

সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, তিনজনকে ঘটনাস্থল নয় বরং নিজ নিজ বাসা থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে এবং বাসা থেকে তুলে নেওয়ার সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষিত রয়েছে। অভিযোগ করা হয়, গ্রেপ্তারের আগে কোনো সার্চ ওয়ারেন্ট ছাড়াই বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয় এবং মোটরসাইকেল ও ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়। তল্লাশিতে কোরবানির কাজে ব্যবহৃত কয়েকটি চাকু ছাড়া অন্য কোনো অস্ত্র পাওয়া যায়নি বলেও দাবি করা হয়।

পরিবারের সদস্যরা জানান, থানায় যোগাযোগ করলে জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে ছেড়ে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও পরদিন সকালে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ডাকাতি মামলা দিয়ে তাদের আদালতে পাঠানো হয়।

সংবাদ সম্মেলন থেকে চার দফা দাবি জানানো হয়—মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা প্রত্যাহার, দ্রুত জামিনের ব্যবস্থা, হয়রানির ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের লিখিত দুঃখপ্রকাশ এবং অভিযুক্তদের পরিবার-পরিজনের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

এদিকে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি হাফেজ খায়রুল ইসলাম বলেন,
আমাদের সংগঠনের তিনজন সক্রিয় জুলাই যোদ্ধাকে ঠিক আওয়ামী লীগ আমলের কায়দায় ফাঁসানো হয়েছে। জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচার সরকার পতনের পরও একই ফ্যাসিবাদী পদ্ধতিতে নেতাকর্মীদের বাসা থেকে তুলে নিয়ে ডাকাতির প্রস্তুতির মামলায় জড়ানো হয়েছে।

পুলিশ ও সেনাবাহিনী অস্ত্র উদ্ধারের নামে তাদের বাসায় তল্লাশি চালিয়ে মারধর করে রাতের বেলায় রাজপাড়া থানায় হস্তান্তর করে। পরদিন সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযানের গল্প সাজিয়ে তাদের ডাকাতি প্রস্তুতিকালে আটক দেখানো হয়। অথচ বাসা থেকে তুলে নেওয়ার সিসিটিভি ফুটেজ আমাদের কাছে রয়েছে। ৫ আগস্টে স্বৈরাচার সরকার পতনের পর এ ধরনের সাজানো নাটক জনগণ কখনোই মেনে নেবে না। আমরা আশা করি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সুষ্ঠু তদন্ত করে দ্রুত আমাদের সহকর্মীদের সসম্মানে মুক্তির ব্যবস্থা করবেন।

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}