কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার মোচাগড়া গ্রামে এক হৃদয়বিদারক ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আজ শনিবার সকালে একটি বাড়ির সেপটিক ট্যাংক থেকে হাত ও মুখ বাঁধা অবস্থায় ৬ বছরের এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে ওই এলাকায় তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াতে থাকলে আশপাশের লোকজন সেপটিক ট্যাংকের কাছে গিয়ে সন্দেহজনক কিছু লক্ষ্য করেন। পরে ট্যাংকটি খুলে ভেতরে তাকালে শিশুটির মরদেহ দেখতে পান তারা। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।
খবর পেয়ে মুরাদনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শিশুটির হাত ও মুখ বাঁধা ছিল, যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
নিহত শিশুটি মোচাগড়া গ্রামের একটি পরিবারের সন্তান বলে জানা গেছে। শিশুটি নিখোঁজ ছিল—এমন তথ্য থাকলেও পরিবার ও প্রতিবেশীরা প্রথমে বিষয়টি বুঝতে পারেননি।
ঘটনার পর এলাকায় চরম আতঙ্ক, উত্তেজনা ও শোকের ছায়া নেমে আসে। নিহত শিশুর স্বজনদের আহাজারিতে এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী দ্রুত ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
মুরাদনগর থানা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান,
“মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এটি একটি হত্যাকাণ্ড বলেই প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বিস্তারিত জানার জন্য মরদেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হবে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্তে আমরা কাজ করছি।”
পুলিশ জানায়, আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ, পারিবারিক ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে হত্যার কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
এ মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো মুরাদনগর উপজেলায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহল বলছে, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।