ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে দীর্ঘ দিনের অভিযোগ, ক্ষোভ আর প্রতিবাদের পর অবশেষে আইনের আওতায় এলো অবৈধ ড্রেজার চক্র। নবীনগরের পশ্চিম ইউনিয়নের চরলাপাং গ্রামে প্রভাবশালী চক্রের দাপটে নিঃস্ব কৃষক, প্রভাবশালীরা ফসলি জমি নষ্ট করে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনের ঘটনায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছে প্রশাসন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে- চরলাপাং এলাকায় ফসলি জমিতে দীর্ঘ দিন যাবত ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন চালিয়ে আসছিল একটি সংঘবদ্ধ চক্র। এতে জমির উর্বরতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি নদী ভাঙ্গনে কৃষকেরা পড়েছেন সংকটে। মামলার এজাহার অনুযায়ী নাম উল্লেখ করা আসামিরা হলেন-পায়েল মোক্তার (৪৫), রিপন মিয়া (৪৮), মাসুদ মিয়া (৪৫), ইমান মিয়া (৪০), নয়ন মিয়া (৩৫), জাহাঙ্গীর (৪০), রিজন মিয়া (২৫), রুবেল (৩০), নাজিমুদ্দিন (৪০), ফারুক মিয়া (৩৫) ও ইবি মিয়া (৩০)। এ ছাড়াও মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এজাহার পর্যালোচনায় দেখা যায়- কয়েকজন আসামি নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার বাসিন্দা। তদন্তে এই চক্রের আর্থিক লেনদেন ও পৃষ্ঠপোষকদের খোঁজে নামছে প্রশাসন। স্থানীয়দের অভিযোগ- অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে বিলম্ব হওয়ায় ড্রেজার খেকোরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। ভুক্তভোগীদের প্রত্যাশা- এ চক্রের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি। একাধিক কৃষক জানান-“আমরা চাই ড্রেজার বন্ধ হোক, জড়িতদের কঠোর শাস্তি হোক”। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে- “মামলার তদন্ত চলমান এবং অবৈধ ড্রেজার কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে”।