শুরু হয়েছে ইরি বোরো মৌসুম। শীতের বিদায় বেলায় গাইবান্ধার মাঠে নেমেছে জীবনের ব্যস্ততা। কুয়াশা সরে যেতেই কাদামাখা জমিতে সারি বেঁধে নেমে পড়েছেন কৃষকরা। ঠান্ডা উপেক্ষা করে, খালি পায়ে নরম মাটিতে রোপণ করছেন সবুজ স্বপ্ন ধানের চারা। প্রতিটি চারার সঙ্গে মিশে থাকছে ঘাম, বুক ভরা আশা আর আগামী দিনের ভাতের গল্প। দূরে গাছের সারি নীরবে তাকিয়ে থাকে, আকাশে রোদের মৃদু হাসি। এই মাঠেই লেখা হচ্ছে জীবনের গল্প নাম না জানা শ্রমে, নীরব সংগ্রামে, মাটির সঙ্গে মানুষের চিরন্তন বন্ধনে। সরেজমিনে দেখা গেছে, শীতের শেষে গাইবান্ধার প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষকরা ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত, যদিও তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশায় বোরো বীজতলার চারা হলুদ হয়ে যাওয়া বা দুর্বল হয়ে পড়ার মতো সমস্যা হয়েছিল। গত কয়েক দিন থেকে ঝলমলে রোদে ওই সব বীজতলার কচি চারাগুলো এখন সবুজে সজীব হয়ে উঠছে।

ঋতুর পালাবদলের সাথে সাথে কৃষিপ্রধান এই অঞ্চলের জীবনযাত্রার স্বাভাবিক ব্যস্ততাকে তুলে ধরেছে, যেখানে শীতের প্রকোপ কমে যাওয়ায় কৃষকরা তাদের প্রধান ফসল ইরিবোরোর চারা রোপনে মনোযোগ দিচ্ছেন। যা এই অঞ্চলের কৃষির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের কৃষক খালেক মিয়া বলেন, ‘বোরো ধান আবাদ করার প্রস্তুতি নিয়েছি। কনকনে ঠাণ্ডা ও হিমেল বাতাসে বীজতলা থেকে চারা এনে রোপণ করার শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছিল না। তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় এখন শ্রমিক নিয়ে মাঠে কাজ করতে পারছি।’ কুপতলা গ্রামের দিনমজুর জাহিরুল ইসলাম বলেন, ‘তীব্র ঠাণ্ডায় কাজ করা খুব কষ্টকর ছিল। তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় এখন কাজ করতে কোনো সমস্যা হচ্ছে না।’ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানায়, ইরিবোরো চাষে কৃষকদের সব ধরনের সহযোগিতা ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে চলতি মৌসুমে বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ না থাকলে বোরো ধানের পর্যাপ্ত ফলনসহ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে। সব মিলিয়ে, গাইবান্ধায় শীতের বিদায় লগ্নে কৃষকের মাঠে বোরো চাষের ব্যস্ততা জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ ফিরিয়ে আনছে এবং এই অঞ্চলের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখছে।

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}