ক্রিকেট খেলত ইংরেজ রা।এটা মুলত শীতকালিন খেলা ছিল।শীতে হাত পা গরম রাখতে ইংরেজ রা এটা খেলত। তাদের দেশের জংগলে উইলো গাছ প্রচুর জন্মাতো।এই গাছের তক্তা দিয়েই ব্যাট তৈরি হত।প্রথমে শুরু হয়েছিল টেস্ট ম্যাচ দিয়ে।টানা পাঁচ দিন এই খেলা চলত।বড় বড় লর্ড, ব্যারন, আর্ল মানে অভিযাত রা বেশ আয়েশ করে এই খেলা খেলতেন। তাই তারা বলত ক্রিকেট হল ভদ্রলোকের খেলা।ইংরেজ রা বুঝানোর চেসটা করল যারা অভিজাত তারা এই খেলা খেলবে এবং দেখবে।তারা যখন এটা ভারত বর্ষে আমদানি করল তখন এটা তাদের করদ রাজ্য গুলাতে রাজ পরিবারে এই খেলার আয়োজন করে।এটা খেলার প্রচলন করে।একটা সময় ছিল সাধারন জনগনকে তথা নেটিভ ইন্ডিয়ানদের খেলা খেলতেই দেয়া হত না।আস্তে আস্তে ইংরেজ গেল তার ক্রিকেট রয়ে গেল।এত লম্বা টেস্ট ম্যাচ দেখার সময় পাব্লিকের নাই।টেস্ট কে ছেটে করা হল ওয়ান ডে।
শুরুতে ৬০ অভারের খেলা ছিল পরে সেটা ৫০ এ নামিয়ে আনা হয়।এটাকে জন প্রিয় করতে ফুটবলের ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপের মত ক্রিকেট ওয়ার্ল্ড কাপ চালু করে ৭৫ সাল থেকে। ক্রিকেট নিয়ে আমাদের উপমহাদেশে যত মাতা মাতি বিশ্বের আর কোথাও এ খেলা নিয়ে অত মাতামাতি নাই। খেয়াল করে দেখবেন এই খেলা গোটা বিশ্বের কয়েক টা দেশ যারা এক সময় ইংরেজের অধীনে ছিল সেই দেশ গুলা ছাড়া আর তেমন কোন দেশে প্রচলিত নেই। ইউরোপে ইংল্যান্ড ছাড়া আর কোথাও এখন আপাতত ক্রিকেট নেই।এক সময় হল্যান্ড খেলত।একবার বয়স্ক এক দল ক্রিকেটার নিয়ে কে বিশ্ব কাপে খেলতে এসে বিশ্ব কে অবাক করে দিয়েছিল। এখন তারা ক্রিকেটে নিস্ক্রিয়। ফ্রান্স জার্মানি স্পেন , সুইডেন, নর ওয়ে, সহ ইউরোপের অন্যান্য দেশে এই খেলা হয়না। শোনা যায় হিটলারের সময় নাকি জার্মানি ক্রিকেট খেলত। একবার নাকি হিটলার তার অফিসে যাবার সময় দেখলেন মাঠে খেলা হচ্ছে।তার সেক্রেটারি কে জিজ্ঞেস করলেন “‘ এখানে কী খেলা চলছে তার সেক্রেটারি জবাব দিল “” ক্রিকেট খেলা হচ্ছে “”.।
এর পাচ দিন পর তিনি একই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছেন।দেখলেন খেলা চলছে।সেক্রেটারি কে প্রশ্ন করলেন।সে বলল সেই যে পাচদিন আগে যে খেলা চলছে আজ তার শেষ দিন।হিটলার রেগে বললেন যে খেলা শেষ হতে পাঁচ দিন লাগে আমার দেশে অমন খেলার দরকার নাই।আমি চাইনা লোকজন কাজ কর্ম বাদ দিয়ে এই খেলা দেখুক।এর পরেই জার্মানিতে তিনি ক্রিকেট নিষিদ্ধ করে দিলেন। আমেরিকা কানাডা ব্রাজিল জাপান কোরিয়া রাশিয়া তে ক্রিকেট নেই। আমাদের এই উপমহাদেশে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা দেখে বড় বড় কোম্পানি গুলা এখানে স্পন্সর হয়ে ঢুকল।একবার তো এক সিগারেট কোম্পানি বিশ্বকাপের টাইটেল স্পন্সর নেয়ায় হই চই হয়েছিল। খেলার উন্মাদনা যেন মাঠ থেকে মাঠের বাইরে ছড়ালো। শুরু হল খেলায় বাজি বা বেটিং।খেলোয়াড় রা জড়িয়ে পড়ল অনইতিকতায়। ম্যাচ ফিক্সিং,বল টেম্পারিং এসব অপরাধে অনেকেই জড়িয়ে গেল টাকার লোভে।
ক্রিকেট ম্যাচ আয়োজন হয়ে উঠল টাকার খনি। আই সি সি কিভাবে টাকা আয় করে এ নিয়ে আমি আগের একটা লেখায় বিস্তারিত বলেছি।কোন এক চতুর দেখল ওয়ান ডে সারা দিন হয়।এতে এখন দর্শকের আগ্রহ কম। ৫০ অভারের ওয়ান ডে কে ছেটে নিয়ে আসা হল ২০ অভারের টিটুয়েন্টি তে। এটা আধাবেলার কম সময়েই শেষ।দর্শকদের উত্তেজনার পারদ সর্বোচ্চ। এটায় বেনিয়ারা স্পন্সর করে লীগ আয়োজন করল আই পিএল, বি পিএল ইত্যাদি নাম দিয়ে।সক্রিয় হল জুয়াড়ি রা।মাঠের খেলা মোবাইলেও চলে এলো। ছেলে পেলেরা পড়া লেখা বাদ দিয়ে জড়িয়ে গেল ক্রিকেটে টাকা লাগানোর নেশায়। ক্রিকেটে যেই সীমাহীন টাকার বন্যা বইল খেলাটি নিছক আর ভদ্রলোকের খেলায় রইল না।