জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর নির্বাচনী পদযাত্রার অংশ হিসেবে আজ সকাল ১১টায় কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার রাহমানিয়া সুপার মার্কেটের সামনে এক পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাবেক উপদেষ্টা ও এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। পথসভায় তিনি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ভোট দিতে হবে। ব্যাংক লুটের সঙ্গে জড়িত রাজনৈতিক শক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এসব দুর্নীতিবাজ গোষ্ঠী আবার ক্ষমতায় এলে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হবে এবং জনগণের অধিকার আবারও হরণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থী এবং ১১ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহকে বিজয়ী করে সংসদে পাঠালে তিনি দেশের মানুষের পক্ষে কথা বলার সুযোগ পাবেন।
নিজ উপজেলার ১১ দলিয় জোটের মুরাদনগর-৩ আসনের জামায়াতে প্রার্থী ইউসুফ হাকিম সোহেল পক্ষেও ভোট চাইলেন তিনি। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে সমালোচনা করে আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া বলেন, ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে তারা মিথ্যাচার করছে এবং সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। তিনি অভিযোগ করেন, তারা চারবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। তাদেরকে ভোট দিলে আবারও দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হবে এবং জনগণ অধিকার আদায় থেকে বঞ্চিত হবে। ‘হ্যাঁ’ ভোটের তাৎপর্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ’ ভোট মানে এই ঘোষণা—জুলাই আর গোপনে উল্টে দেওয়া যাবে না। ‘হ্যাঁ’ ভোট মানে বাংলাদেশ আর কখনো স্বৈরতন্ত্রের সঙ্গে আপস করবে না—সে ঘরোয়া হোক বা বিদেশি সহায়তাপুষ্ট।
পথসভায় উপস্থিত জামায়াত ও এনসিপির অন্যান্য নেতাকর্মীরা বলেন, বাংলাদেশ আবার ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে। একটি ভুল সিদ্ধান্ত জাতিকে দশক পিছিয়ে দিতে পারে, আর একটি সঠিক সিদ্ধান্ত প্রজন্মের ভাগ্য বদলে দিতে পারে। তারা বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি কোনো সাধারণ নির্বাচনের দিন নয়, এটি একটি রাষ্ট্রের স্মৃতি ও বিস্মৃতির মধ্যে বেছে নেওয়ার দিন। বক্তারা আরও বলেন, ভোটের অধিকার হরণ, বিরোধী কণ্ঠ রুদ্ধ করা এবং রাষ্ট্রকে দলীয় সম্পত্তিতে পরিণত করার বিরুদ্ধে জনগণ আন্দোলনে নেমেছিল। সেই আন্দোলনের মূল্য ছিল রক্ত, জীবন ও ভবিষ্যৎ। এই আত্মত্যাগ শুধু স্মরণ করার জন্য নয়, রাষ্ট্র নির্মাণের জন্য। গণভোট সেই নির্মাণেরই নাম। পথসভায় স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।