জামালপুরের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবিপ্রবি) বিভিন্ন পদে তড়িঘড়ি নিয়োগের অভিযোগ উঠেছে।

পছন্দের প্রার্থীদের নিয়োগ এবং পদোন্নতির অভিযোগে পদোন্নতি বঞ্চিত কর্মচারীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম অসন্তোষ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ১৩ নভেম্বর তিনজন শিক্ষক এবং চারজন কর্মকর্তা নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে দেখা যায়, ইইই বিভাগে ২ জন প্রভাষক, ইংরেজি বিভাগের ১ জন প্রভাষক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকতা হিসেবে
রেজিস্ট্রার, পরিচালক (অর্থ ও প্রশাসন), ডেপুটি রেজিস্ট্রার ও উপাচার্যের ব্যাক্তিগত সচিব( পিএস টু ভিসি) চারটি পদে নিয়োগে যোগ্য প্রার্থীদের আবেদন করার আহ্বান জানানো হয়।

এর আগে ১৬ মার্চ ২৯টি পদে ৪৫জন কর্মকর্তা কর্মচারী নিয়োগে আরেকটি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। ওই বিজ্ঞপ্তিতে ২৯ টি পদে ৪৫জন কর্মকর্তা কর্মচারী নিয়োগের জন্য যোগ্য প্রার্থীদের আবেদনপত্র চাওয়া হয়েছে।

পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পদে ১জন, সিনিয়র সিস্টেম এনালিস্ট পদে ১জন, উপ পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক পদে ১ জন, নির্বাহী প্রকৌশলী পদে ১জন, সহকারী পরিচালক (অর্থ ও প্রশাসন) পদে ১জন,
১জন সেকশান অফিসার, ১জন অডিট অফিসার,১ জন ফিজিক্যাল ইন্সট্রাক্টর, সহকারী হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা পদে ১জন, সহকারী বাজেট কর্মকর্তা পদে ১জন, ১জন প্রশাসনিক কর্মকর্তা, ১জন হল সুপার, ১জন সিভিল উপসহকারী প্রকৌশলী, ১জন ইলেকট্রিক্যাল উপসহকারী প্রকৌশলী, সিনিয়র স্টাফ নার্স ১জন, নেটওয়ার্ক টেকনিশিয়ান ১জন,কেয়ারটেকার ২জন,১জন ক্যাটালগার, ১জন টেকনিশিয়ান (জিওলজি),
২জন স্টোর কিপার, অফিস সহকারী কাম টাইপিস্ট ৫জন, ১জন লাইব্রেরি এসিস্ট্যান্ট, ৩জন ড্রাইভার, ইলেক্ট্রিশিয়ান ১জন, ১জন ল্যাব এটেনডেন্ট, বাবুর্চি ১জন,স্টোর এটেনডেন্ট ১জন,অফিস সহায়ক ৬জন এবং ৪জন পরিচ্ছন্নতা কর্মী নিয়োগ করা হবে বলে
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

নিয়োগ বাণিজ্যের পাশাপাশি অভিযোগ উঠেছে পছন্দের লোকদের নিয়োগ এবং পদোন্নতি নিয়ে।

সম্ভাব্য প্রার্থীদের একটি তালিকা ঘেঁটে দেখা যায়,
যোগ্যতা এবং আবেদন থাকা সত্বেও একাধিক কর্মকর্তা এবং কর্মচারীরা পদোন্নতি বঞ্চিত হচ্ছে।
ক্রাইটেরিয়া পূর্ণ হলেও পদোন্নতি বঞ্চিত হচ্ছেন সেকশান অফিসার হিজবুল্লাহ সহ একাধিক সেকশান অফিসার, মেডিকেল অফিসার ডা. নীলিমা নাসরীন পদোন্নতির ডাক পেয়েও শেষমেশ বাদ পড়েন, সহকারী হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা খাইরুল ইসলাম, সফিউর রহমান এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তা নাফিউল সরকারের পদোন্নতি হচ্ছে না।
পছন্দের প্রার্থী হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা হাবিবুর রহমানকে সহকারী হিসাব পরিচালক পদে নিয়োগ নিয়ে কোন কার্পণ্য দেখা যাচ্ছে না।

চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে তৃতীয় শ্রেনীর কর্মচারীদের মধ্যে।
তৃতীয় শ্রেনীর ১১তম গ্রেডের ১২জন কর্মচারীর কোন পদোন্নতি হচ্ছে না।

অথচ ১৬তম গ্রেডের কর্মচারীদের পদোন্নতি চুড়ান্ত করেছে বলে জানিয়েছেন বঞ্চিত কর্মচারীরা।
জানা গেছে, ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের মিলনায়তনে ৭ ফেব্রুয়ারি জাবিপ্রবির সিন্ডিকেট সভা বসবে।

ওই সভায় নিয়োগের চুড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হতে পারে। বঞ্চিত কর্মচারীদের একজন নুরুল ইসলাম বলেন, আমাদের সময় হয়েছে অনেক আগেই।
বিভিন্ন যুক্তি দেখিয়ে আমাদের বঞ্চিত করা হচ্ছে।

কম্পিউটার অপারেটর জাহাঙ্গীর আলম বলেন,
যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও অনেক কর্মকর্তা কর্মচারীরা বঞ্চিত হচ্ছে।
১৬তম গ্রেডের কর্মচারীদের পদোন্নতি দিয়ে ১১৩ম গ্রেড দেয়া হচ্ছে কিন্তু ১১তম গ্রেডের কর্মচারীদের কোন জায়গা নেই।
অপরদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পদে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ পুরনো।

অফিস সহায়ক পদে নিয়োগের কথা বলে স্হানীয় শাকিল নামে একজনের সাড়ে তিন লাখ টাকা নিয়ে উধাও বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসচালক বাবু মিয়া।

এদিকে বাবু মিয়ার ফোনও বন্ধ থাকায় যোগাযোগ করা যায় নি।

আউটসোর্সিং কর্মচারী নার্গিস এবং তানজিলাকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে গত জুলাই মাসে। তাদের দুজনের কাছ থেকে আট লাখ টাকা ঘুষ নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

যদিও তানজিলা বিষয়টি অস্বীকার করেছেন, এত সহজে কোন পরীক্ষা না দিয়ে চাকরি হয়েছে কীভাবে তার সদুত্তর দিতে পারেননি তানজিলা।

শুরু থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত নিয়োগ বানিজ্যসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে সহকারী রেজিস্ট্রার আহসান হাবিবের বিরুদ্ধে।

আহসান হাবিব তার খালাতো ভাই এবং শালা সোহেল রানার চাকরি নিয়ে দিয়েছেন, সোহেল রানার ব্যাচের পদোন্নতিও হচ্ছে তার প্রভাবেই।

এমনই অভিযোগ একাধিক কর্মকর্তা কর্মচারীর।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ১২ ফেব্রুয়ারি।
পাঁচদিন আগে তড়িঘড়ি করে সিন্ডিকেট সভা ডেকে নিয়োগ চুড়ান্ত করার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জানা গেছে, একাধিক পদে নিয়োগ না হলেও পছন্দের প্রার্থীদের নিয়োগ নিশ্চিত করতে তোড়জোড় করছেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে, জাবিপ্রবির উপ- উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মোশারফ হোসেন বলেন, নিয়ম নীতির বাইরে কোন কিছুই হচ্ছে না, হবেও না। কেউ অযোগ্য হলে কিংবা নিয়োগ পদোন্নতির ক্ষেত্রে সময় পরিস্থিতি এবং পদ্ধতিগত সমস্যা হলে নিয়োগ বা পদোন্নতি দেরিতে হতে পারে। কারো বিরুদ্ধে প্রমাণসহ সুনির্দিষ্ট অভিযোগ
পাওয়া গেলে ব্যবস্হা নেয়া হবে।
কাউকে অনিয়ম করে নিয়োগ পদোন্নতি দেয়া হবে না, কাউকে বঞ্চিত করাও হচ্ছে না।
সিন্ডিকেটে সব পাশ হবে এমনটা মনে করার সুযোগ নেই। নিয়মানুযায়ী কর্মকর্তা কর্মচারীরা পদোন্নতি পাবে বলে জানান তিনি।।

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}