আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর বিজয়নগর ৩ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল নির্বাচনী গণসংযোগ করেন। ৬ ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার) রাত ৯টায় শহরের ৫নং ওয়ার্ডের বৃহত্তর মধ্যপাড়ার ওয়ার্ড বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের আয়োজনে ব্রাদার্স ইউনিয়ন ক্লাব প্রাঙ্গণে ৫নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আবুল খায়ের মিয়ার ভাপতিত্বে ও জেলা বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক জসিম উদ্দিনের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সভাপতি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর বিজয়নগর ৩ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল। নির্বাচনী পথসভায় তিনি বলেন, গত ৩তিনটি নির্বাচনে আওয়ামীলীগ জনগণের ভোটাধিকার হরণ করেছে। ২০১৪ সনের নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করেনি। বিএনপি অংশগ্রহণ না করার কারণে অসংখ্য ভোট কেন্দ্রে কুকুর ঘুমিয়েছে। সারাদেশে মাত্র ৬/৭ ভাগ ভোট পড়েছে। এতেই বোঝা যায় ২০১৪ নির্বাচন জনগণ কিভাবে প্রত্যাখান করেছিল। ২০১৮ নির্বাচনে আমরা অংশগ্রহণ করেছিলাম। তখন নির্বাচনী প্রচারণায় আমাদের গাড়ি ভাংচুর করেছে, আমাদের মিছিল মিটিংয়ে হামলা চালিয়েছে।

তাদের নির্বাচনী কার্যালয়ে আগুন লাগিয়ে আমাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে জেলে ঢুকিয়েছে। ২০১৮ সালের নির্বাচনে আমার বাড়িঘর পুড়িয়েছে। আমাদের কর্মীদের উপর গুলি চালিয়ে নির্বিচারে হত্যা করেছে। শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের আগের রাতে ভোট ছাপিয়ে দিনের ভোট রাতে সেরেছে। ২০২৪ এর নির্বাচনে আমি আর ডামি নির্বাচনে জনগণের ভোট হরণ করেছে বলেই শিক্ষার্থীদের সামান্যতম চাকুরীর কোটা বাতিলের দাবিতে জুলাই আন্দোলনে আওয়ামীলীগ ফ্যাসিস্ট সরকার তাদের তিনশতো এমপি মন্ত্রী নিয়ে পলায়ন করতে হয়েছে। এটা একটা শিক্ষা ও একটা উদাহরণ। এই উদাহরণ থেকে আমাদেরও শিক্ষা নিতে হবে। তিনি আরো বলেন, জনগণের সাথে যা করা হবে তাই আপনার মাঝে ফিরে আসবে। আমি আমার নেতাকর্মীদের বলে দিয়েছি। কেউ যেন ভোট ছাপাইতে না যায়। জনগণের ভোট, জনগণ যাকে দিবে সে-ই জয়ী হবে। আমরা জনগণের রায় মেনে নিব। আমি আপনাদের কাছ থেকে নিতে আসিনি দিতে এসেছি। আপনাদের সেবা করতে এসেছি। তিনি বলেন, এখন আর আগের মত নির্বাচন হবেনা। এবারের নির্বাচন খুব কঠিন নির্বাচন হবে। আর্মি, পুলিশ, বিজিবি র্যা বসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উপস্থিত থাকবেন। প্রতিটা ভোট কেন্দ্র সিসি ক্যামেরা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত থাকবে। আমাদের নেতাকর্মীরা ভোট ছাপাতে চাইলে কিংবা ভোট প্রদানে জোর জবরদস্তী করলে আমরা তাদেরকে দল থেকে বহিষ্কারসহ তাদের বিরুদ্ধে কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা নিব। আপনাদের ভোট দিতে কেউ যদি বাঁধা দেয় তাকে আপনারা সম্মিলিতভাবে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করবেন। তিনি আরো বলেন, এই শহরের রাস্তা ঘাটের যে অবস্থা তাতে দেখলাম শহরবাসীদের খুবই কষ্ট হচ্ছে। এই এলাকায় মাদকের ভয়াবহ অবস্থা। মাদকের ছোবলে একটি পরিবার ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। আমি কথা দিচ্ছি আমি নির্বাচিত হলে এই এলাকা থেকে মাদক নির্মূল করা হবে।

আমাদের নেতা তারুণ্যের অহঙ্কার বিএনপির চেয়ারপার্সন তারেক রহমান গত ২২ তারিখে কুট্টাপাড়ার জনসভায় বলেছেন, বিএনপি যদি সরকার গঠন করতে পারে তাহলে প্রতিটা পরিবারকে একটি করে ফ্যামিলি কার্ড দেয়া হবে। এই ফ্যামিলি কার্ডে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকার মাসিক নিত্যপ্রয়োজনীয় চাল, ডাল, তেল, লবণ ইত্যাদি বিনামূল্যে দেয়া হবে যেন একটি পরিবার সহজেই চলতে পারে। কৃষকদের দেয়া হবে কৃষি কার্ড। কৃষি কার্ডে থাকবে, কোন কৃষকের যদি উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটে যেমন, সার, কীটনাশক, বীজ, কিংবা খরা, অতি বৃষ্টি, অনাবৃষ্টির কারণে ফসল উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটে তাহলে কৃষকদেরও ঋণ দেয়া হবে। কৃষকদের পাঁচ থেকে দশ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফ করা হবে। এসময় উপস্থিত ছিলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী সিরাজুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি জহিরুল হক খোকন, সহসভাপতি এডভোকেট শফিকুল ইসলাম, সহসভাপতি এবিএম মোমিনুল হক, এডভোকেট আবদুর রহমান, নিউইয়র্ক বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাঈদ আহমেদ, জসিম উদ্দিন রিপন, নজরুল ইসলাম, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আলী আজম, যুগ্ম সম্পাদক মাইনুল হোসেন চপল, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন মাহমুদ, জেলা যুবদলের সহসভাপতি আশিকুল ইসলাম সুমন, গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক শেখ শেকুল ইসলাম, জেলা শ্রমিক দলের প্রচার সম্পাদক বারেক মিয়া, পৌর বিএনপির সহসভাপতি নুরুল ইসলাম শিশির, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব ইয়াছিন বাবু, মিয়া, সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম, এজাজ আহমেদ মনির, ওয়ার্ড যুবদল সভাপতি ইসরাইলসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}