আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গাইবান্ধার গ্রামাঞ্চলে এখন দম ফেলার ফুসরত নেই। এক দিকে বোরো ধানের চারা রোপণের ভরা মৌসুম, অন্য দিকে দরজায় কড়া নাড়ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট। মাঠের কাদা-পানিতে একাকার হয়ে যখন পুরুষেরা ব্যস্ত বোরো ধানের চারা রোপণে, তখন গ্রামগঞ্জের নির্বাচনী মাঠ দখলে নিয়েছেন নারী ভোটাররা। সরেজমিন বিভিন্ন প্রার্থীর গণসংযোগে এ চিত্র লক্ষ্য করা গেছে। এমন প্রচারণায় এবার ভোটে নারীদের উপস্থিতি আগের তুলনায় বাড়বে বলে স্থানীয়রা ধারণা করছেন।

সরেজমিন দেখা যায়, গাইবান্ধার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের দিগন্তজোড়া মাঠজুড়ে এখন কেবলই সবুজের হাতছানি। কাকডাকা ভোর থেকে গোধূলি লগ্ন পর্যন্ত মাঠেই কাটছে পুরুষদের সময়। কিন্তু এই চিরচেনা কৃষি-ব্যস্ততার সমান্তরালে এখন বইছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের হাওয়া। ফসলের মাঠ আর ভোটের মাঠ, এই দুইয়ের মেলবন্ধনে গাইবান্ধায় তৈরি হয়েছে এক অভূতপূর্ব রাজনৈতিক আবহ। বোরো চাষের ভরা মৌসুমে পুরুষ ভোটাররা মাঠে ব্যস্ত থাকায় নির্বাচনী প্রচারণার মূল কেন্দ্রে চলে এসেছেন নারীরা। যে গ্রামগুলোতে একসময় নির্বাচনের দিন ছাড়া নারীদের তেমন দেখা যেত না, সেখানে এখন সকাল-বিকেল বসছে জমজমাট উঠান বৈঠক। সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীদের প্রচার কৌশলেও এসেছে বড় পরিবর্তন। বড় সভার চেয়ে তাঁরা এখন গুরুত্ব দিচ্ছেন বাড়ির আঙিনায় ছোট ছোট নারী সমাবেশ ও উঠান বৈঠক। নারী সমাবেশ আর উঠান বৈঠকে নারীদের সরব উপস্থিতি ভোটের সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও উন্নয়নকর্মীরা মনে করছেন, বোরো চাষ ও নির্বাচন একসঙ্গে হওয়ায় নারী ভোটারদের মর্যাদা এক লাফে অনেকখানি বেড়ে গেছে। আগে প্রচারণার বড় একটি অংশ ছিল হাট-বাজার কেন্দ্রিক, যেখানে পুরুষদের আধিপত্য বেশি। কিন্তু এখন প্রচারণার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে অন্দরমহল বা বাড়ির আঙিনা। মাঠে কাজ করছেন পুরুষেরা, আর নির্বাচনী মাঠের প্রাণচাঞ্চল্য ধরে রেখেছেন নারীরা। এটি নির্বাচনে নারী ভোটারদের গুরুত্ব ও প্রভাব বাড়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত। কাদা-মাখা শ্রম আর স্বপ্নের রাজনীতি, সব মিলিয়ে গাইবান্ধা আসনের নির্বাচনী চিত্র এখন এক অনন্য বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি।

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}