চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের তিন শিক্ষার্থী পরিবেশ দূষণকারী আগাছা ব্যবহার করে কাগজ তৈরির এক ব্যতিক্রমধর্মী ও পরিবেশবান্ধব উদ্ভাবন করেছেন। এই উদ্যোগ পরিবেশ সংরক্ষণ, আগাছা নিয়ন্ত্রণ এবং টেকসই উন্নয়নের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।

উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সৈকত চক্রবর্ত্তী, সুরঞ্জনা ত্রিপুরা ও লামিয়া আক্তার হালিমা দীর্ঘ গবেষণা ও পরীক্ষার মাধ্যমে আগাছাভিত্তিক কাগজ তৈরিতে সফল হন। চলতি মাসের ১৫ তারিখ তারা চূড়ান্তভাবে ব্যবহারযোগ্য কাগজ উৎপাদন করতে সক্ষম হন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সায়েন্স ফ্যাকাল্টির পুকুরে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা বিপুল পরিমাণ কচুরিপানা জলজ জীবন ও জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠেছিল। একই সঙ্গে রাস্তার পাশে অবাধে জন্মানো ভৃঙ্গরাজ ফুলসহ বিভিন্ন আগাছা আশপাশের গাছপালার স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে বাধা সৃষ্টি করছিল। এই সমস্যাকে সুযোগে রূপান্তর করতেই শিক্ষার্থীরা আগাছা থেকে কাগজ তৈরির উদ্যোগ নেন।

গবেষণার অংশ হিসেবে তারা কচুরিপানা, ভৃঙ্গরাজ, নলখাগড়া, খড়, আখের ছোবড়া, ধানের ভূসি, পাটের ফেলে দেওয়া অংশ, কলাগাছ ও বাঁশসহ বিভিন্ন ফাইবারজাত উদ্ভিদ থেকে ফাইবার সংগ্রহ করেন। উদ্ভিদবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী হওয়ায় তারা ফাইবার শনাক্তকরণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং কাগজের গুণগত মান যাচাইয়ের প্রতিটি ধাপ বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সম্পন্ন করেন।

শিক্ষার্থীদের দাবি অনুযায়ী, বাংলাদেশে এই প্রথম বিভিন্ন ধরনের আগাছার সম্মিলিত ফাইবার ব্যবহার করে কাগজ তৈরি করা হয়েছে। এর আগে কেবল কচুরিপানা নিয়ে সীমিত পরিসরে গবেষণা হলেও, সম্পূর্ণ আগাছাভিত্তিক কাগজ তৈরির উদ্যোগ এটিই প্রথম।

এছাড়াও তারা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনের পর ফেলে দেওয়া কাগজ পুনর্ব্যবহার করে নতুনভাবে ব্যবহারযোগ্য কাগজ তৈরিতে সফল হয়েছেন। এটি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পুনর্ব্যবহারের একটি কার্যকর দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

উদ্ভাবক সৈকত চক্রবর্তী এ বিষয়ে বলেন, আমাদের এই চেষ্টা বাজারে প্লাস্টিকের দৌরাত্ব কমাবে। নতুন কর্মসংস্থান তৈরীর ক্ষেত্রেও অবদান রাখবে বলে আমরা আশা করি। তবে এর জন্য সব থেকে বেশি প্রয়োজন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পরিবেশ রক্ষা, আগাছা নিয়ন্ত্রণ এবং বিকল্প কাগজ উৎপাদনের ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। গবেষণাটি বাণিজ্যিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে পরিবেশবান্ধব শিল্পখাতে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}