ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভের পর যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক টানা মাঠপর্যায়ে জনসম্পৃক্ত কার্যক্রম শুরু করেছেন। নির্বাচনোত্তর সময়েই সাধারণ ভোটার, ব্যবসায়ী ও দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে ধারাবাহিক সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছেন তিনি।

গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ছয়জন প্রার্থীর অংশগ্রহণে ত্রিমুখী লড়াইয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৩০ হাজার ৫৯৬ ভোট পেয়ে তিনি বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী পান ৫৪ হাজার ৪১৫ ভোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী এম ইকবাল হোসেনের কলস প্রতীকে পড়ে ৮৪ হাজার ২৭৬ ভোট।

নির্বাচনের পরদিন থেকেই তিনি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও বাজার এলাকায় ঘুরে ঘুরে জনতার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। ঝাপা ইউনিয়নের রাজগঞ্জ বাজার, ১০ নম্বর মশ্বিমনগর ইউনিয়নের পারখাজুরা ও বেলতলা চাকলা বাজার, ১১ নম্বর চালুয়াহাটি ইউনিয়নের শয়লা ও নেংগুড়াহাট বাজার, ১২ নম্বর শ্যামকুড় ইউনিয়নের চিনেটোলা বাজার, ১৪ নম্বর দূর্বাডাঙ্গা ইউনিয়নের দূর্বাডাঙ্গা ও শ্যামনগর বাজার এবং ১৭ নম্বর মনোহরপুর ইউনিয়নের তেমাথা মোড়সহ বিভিন্ন স্থানে মতবিনিময় সভা করেন তিনি।

রাজগঞ্জ বাজারে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে এমপি এনামুল হক বলেন, মণিরামপুর দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম উপজেলা হলেও অবকাঠামো ও প্রশাসনিক সেবায় কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। বিশেষ করে পশ্চিমাঞ্চলের ইউনিয়নগুলোতে আইনশৃঙ্খলা সহায়তা পেতে সাধারণ মানুষকে দীর্ঘসূত্রতায় পড়তে হয়। এ প্রেক্ষাপটে রাজগঞ্জে একটি পূর্ণাঙ্গ থানা স্থাপনের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

তার ভাষ্য, পৃথক থানা প্রতিষ্ঠা হলে আইনশৃঙ্খলা জোরদার হবে, মাদক ও অপরাধ দমনে গতি আসবে, ব্যবসায়ীরা নিরাপদ পরিবেশে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবেন। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, সড়ক উন্নয়ন এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি সৃষ্টির পথ সুগম হবে।
নির্বাচনী অঙ্গীকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভোটের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। বাজারভিত্তিক চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে। প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে একটি স্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন তিনি।

এক সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি বলেন, দলীয় বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে পুরো মণিরামপুরের জনগণের প্রতিনিধিত্বই তার দায়িত্ব। অপরাধী যে দলেরই হোক, কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মতবিনিময় সভাগুলোতে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ নাগরিকরা জরাজীর্ণ সড়ক সংস্কার, বাজার এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার এবং দ্রুত প্রশাসনিক সেবা নিশ্চিতের দাবি তোলেন। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যের সরাসরি উপস্থিতি ও জনসম্পৃক্ততা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অনেকেই।

তবে এখন এলাকাবাসীর দৃষ্টি প্রতিশ্রুত বাস্তবায়নের দিকে। নির্বাচনী অঙ্গীকার কত দ্রুত বাস্তব রূপ পায়, সেটিই নির্ধারণ করবে এই জনসম্পৃক্ত উদ্যোগের সাফল্য।

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}