সদ্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের কারচুরি ও নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেন চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী-বায়েজিদ) আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মাওলানা নাছির উদ্দীন মুনির। তবে অভিযোগপত্র পাঠ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নোত্তর পর্বে একের পর এক প্রশ্নের জবাব দিতে না পেরে শেষ পর্যন্ত দ্রুত সংবাদ সম্মেলন শেষ করে বেরিয়ে যান তিনি।

শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ভবনের এস রহমান হলে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এর আগে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ২০২৬ উপলক্ষে সকাল সাড়ে ৭টায় দেশের ২৯৯টি সংসদীয় আসনে একযোগে ভোট গ্রহণ শুরু হয়।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে মাওলানা নাছির উদ্দীন মুনির বলেন, ভোট গ্রহণ সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঠিকঠাক চলছিল। তবে দুপুরের পর কারচুপি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। কিন্তু এবিষয়ে তিনি ওইদিন অভিযোগের প্রমাণপত্র দেখাতে পারেননি তিনি।

ভোটের কারচুরি ও অনিয়ম নিয়ে থানায় বা আদালতে কোনো প্রতিকার চেয়েছেন কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে প্রার্থী বলেন, এখনও পর্যন্ত থানায় কিংবা আদালতে অভিযোগ করা হয়নি। দলীয় সিদ্ধান্তের পর অভিযোগ করা হবে।

১৪৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ক্যান্টনমেন্টের দুটি কেন্দ্র ছাড়া বাকি প্রায় সব কেন্দ্রে তিনি হেরে গেছেন। এমনকি নিজের কেন্দ্র চারিয়াতেও তিনি পরাজিত হয়েছেন। এ অবস্থায় এত ব্যাপক ব্যবধানে পরাজয়ের পর ভোট কারচুপির অভিযোগ কতটা যুক্তিযুক্ত, এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি এ বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

এছাড়া, ভোটের দিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে সরব ছিল। কেন্দ্রে কোথাও অনিয়ম হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা। তাহলে ভোটের দিন আপনি কোনো অভিযোগ না করে তিন দিন পর সংবাদ সম্মেলনে এসে কেন অভিযোগ তুলছেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কোনো উত্তর দিতে পারেননি।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকরা তার বিরুদ্ধে চার থেকে পাঁচটি চেক প্রতারণা মামলার অভিযোগের বিষয়টি তুলে ধরেন। জবাবে প্রার্থী বলেন, এসব অভিযোগ মিথ্যা। তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, চেক প্রতারণার বিষয়ে কাগজ দেখান আমাকে, কে এই তথ্য দিয়েছে তা জানান। এরপর উপস্থিত সাংবাদিকরা বলেন, সোর্সের নাম প্রকাশ করতে তারা বাধ্য নন।

মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগের দিনই তাকে জমিয়ত উলামায়ে ইসলাম থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। এরপর তিনি খেলাফত আন্দোলনের ‘রিকশা’ প্রতীকে প্রচারণা চালান। পাশাপাশি হেফাজতের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার কারণে হেফাজত অধ্যুষিত এলাকায় ওই সংগঠন তার পক্ষে মাঠে নামেনি, এমন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নির্বাচনের একদিন আগে বিএনপি নেতা সালাহ উদ্দিনের নেতৃত্বে তার লোকজনকে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছিল। ফলে তার কর্মীরা মাঠে কাজ করতে পারেনি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ ওঠে, তিনি ব্যারিস্টার আনিসের টাকায় নির্বাচন করেছেন। আলোচনায় থাকার উদ্দেশ্যে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত চরিত্র নিয়েও স্থানীয় পর্যায়ে নানা অভিযোগ আছে বলে প্রশ্ন করা হলে এসব প্রশ্নের জবাব না দিয়েই এক পর্যায়ে দ্রুত সংবাদ সম্মেলন শেষ করে সেখান থেকে চলে যান মাওলানা নাছির উদ্দীন মুনির।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, জামায়াতের চট্টগ্রাম উত্তর জেলার শুরা ও কর্মপরিষদ সদস্য রফিকুল ইসলাম, এনসিপির নেতা কে আই সাগর, আনোয়ার হোসাইন রব্বানী, মাওলানা মো. ঈসা ও মুফতি সিহাবুদ্দিন সহ অনেকে।

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}