আমি নেত্রকোণা জেলার একজন সাংবাদিক। সাংবাদিকতা আমার পেশা, নেশা এবং দায়বদ্ধতার জায়গা। কর্মজীবনের শুরুতে আমি এনালগ ক্যামেরা হাতে নিয়ে মাঠে নেমেছি, ঘটনার পেছনের গল্প খুঁজেছি, মানুষের কণ্ঠ তুলে ধরেছি। তখন প্রযুক্তি এত সহজলভ্য ছিল না; ছবি তুলতে ফিল্ম লাগত, লেখা হতো হাতে কিংবা টাইপ মেশিনে। সময়ের সঙ্গে প্রযুক্তি বদলেছে, আমিও বদলেছি।

গত একযুগেরও বেশি সময় ধরে আমি কাগজে লিখি না। প্রকৃতিকে বাঁচানোর দায় থেকেই এই সিদ্ধান্ত। কাগজ তৈরির জন্য যে অসংখ্য গাছ কাটা হয়, তা ভেবে আমার বিবেক প্রশ্ন তোলে। একজন সাংবাদিক হিসেবে আমি যেমন সমাজের অন্যায়ের বিরুদ্ধে লিখি, তেমনি পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রেও আমার দায়িত্ব আছে। তাই আমি ডিজিটাল মাধ্যমে লেখা তৈরি করি, সম্পাদনা করি এবং অনলাইনে পাঠাই।

মজার বিষয় হলো—আমি কাগজে না লিখলেও আমার লেখা বিভিন্ন পত্রিকায় নিয়মিত ছাপা হয়। অর্থাৎ, আমার কলম থেমে নেই; শুধু তার মাধ্যম বদলেছে। এখন ল্যাপটপ বা মোবাইলই আমার খাতা। প্রযুক্তি আমাকে সেই সুযোগ করে দিয়েছে, যেখানে গাছ না কেটেও আমি আমার চিন্তা, বিশ্লেষণ ও প্রতিবেদন মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পারি।

এনালগ ক্যামেরা থেকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম—এই দীর্ঘ যাত্রায় আমি বুঝেছি, পরিবর্তনকে গ্রহণ করাই টিকে থাকার পথ। পরিবেশ রক্ষা এখন আর বিলাসিতা নয়, প্রয়োজন। ছোট ছোট ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তই বড় প্রভাব ফেলে। আমি যদি অপ্রয়োজনীয় কাগজ ব্যবহার না করি, অন্যরাও অনুপ্রাণিত হতে পারে।

প্রকৃতি আমাদের জীবনদাত্রী। একজন সাংবাদিক হিসেবে আমি সমাজের কথা লিখি, মানুষের কথা লিখি—আর সেই মানুষ ও সমাজ টিকে আছে প্রকৃতির ওপর নির্ভর করেই। তাই প্রকৃতিকে বাঁচাতে আমি কাগজে লিখি না। এটি শুধু একটি অভ্যাস নয়, এটি আমার সচেতনতা, আমার দায়বদ্ধতা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি আমার অঙ্গীকার।

লেখকঃ তথ্যপ্রযুক্তিবিদ আসাদুজ্জামান তালুকদার

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}