ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনার হত্যাকান্ডের বিচার চেয়ে মানববন্ধন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপি ও জামাতপন্থি শিক্ষক সংগঠনগুলো। এ সময় মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করেছে শাখা ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা।
রবিবার (৮ মার্চ) দুপুর ১২ টায় প্রশাসন ভবন চত্ত্বরে হওয়া মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মাসুদ রুমী মিথুন, যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার পারভেজ, আবু দাউদ, আহসান হাবীব, সদস্য সাব্বির হোসেন, রাফিজ আহমেদ, নূর উদ্দিন, উল্লাস মোহাম্মদ, আবু সাইদ রনি, রাকিব হাসান স্বাক্ষরসহ অন্যরা।
মানববন্ধনে নেতৃবৃন্দ বলেন, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ধারাবাহিকভাবে ঘটে যাওয়া দুইটি নির্মম হত্যাকাণ্ড আমাদের সকলের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়। কিছুদিন আগে আমাদের শিক্ষার্থী ছোট ভাই সাজিদ আব্দুল্লাহকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, সাজিদ হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে প্রশাসন চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। এখন পর্যন্ত এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজন কাউকে স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করা যায়নি। এদিকে, সম্প্রতি নিজ কক্ষে শিক্ষিকা আসমা সাদিয়া রুনা ম্যামের নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা আবারও প্রমাণ করেছে যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, অনতিবিলম্বে প্রশাসনকে সাজিদ আব্দুল্লাহ ও আসমা সাদিয়া রুনা ম্যামের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলকে চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেফতার এবং দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা আরও বৃহত্তর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।
উল্লেখ্য, বুধবার (৪ মার্চ) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মচারীর ছুরিকাঘাতে হত্যাকান্ডের শিকার হন সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ইবি থানায় অভিযুক্ত কর্মচারী ফজলুর রহমানকে প্রধান আসামি করে ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন নিহতের স্বামী ইমতিয়াজুর সুলতান। পরদিন আসামী ফজলুর রহমানকে গ্রেফতার করে ইবি থানা।
এছাড়া এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের সাবেক কর্মচারী ও উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা সিদ্দিকা হলের সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস, সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার এবং একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাবিবুর রহমানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।