প্রতিবাদের মুখে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আবাসিক হল বন্ধের সিদ্ধান্ত আংশিক পরিবর্তন করেছে প্রশাসন। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ১৫ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলসমূহ বন্ধ থাকবে।
রবিবার (৮ মার্চ) রাতে হল বন্ধের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের পরদিন সোমবার (৯ মার্চ) প্রভোস্ট কাউন্সিলের সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রভোস্ট কাউন্সিলের সভাপতি অধ্যাপক ড. জালাল উদ্দিন।
এর আগে বৈশ্বিক সংকট মোকাবেলায় জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের সরকারি নির্দেশনার অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রমের পাশাপাশি আবাসিক হলসমূহ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। ওই সিদ্ধান্ত প্রকাশের পরই শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।
রবিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিয়া মোড় থেকে শিক্ষার্থীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হল প্রদক্ষিণ করে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে গিয়ে অবস্থান নেয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘হল বন্ধের সিদ্ধান্ত মানি না মানবো না’, ‘হল আমার অধিকার, বঞ্চিত করার ক্ষমতা কার’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।
শিক্ষার্থীরা বলেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থী মধ্যবিত্ত পরিবারের। অনেকেই টিউশনির টাকায় নিজেদের খরচ চালান। হঠাৎ করে হল বন্ধ করে দিলে তারা টিউশনিসহ বিভিন্ন কাজে সমস্যায় পড়বেন। এছাড়া অনেকেই চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাই এ সময় জোর করে বাড়ি পাঠানো ঠিক হবে না।
প্রতিবাদের পর হল প্রভোস্ট কাউন্সিলের সভাপতি অধ্যাপক ড. জালাল উদ্দিন জানান, বিষয়টি নিয়ে পরদিন প্রভোস্ট কাউন্সিলের সভায় আলোচনা করে নতুন সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
পরদিন অনুষ্ঠিত সভায় সিদ্ধান্ত হয়, আগামী ১৫ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলসমূহ বন্ধ থাকবে।