দীর্ঘ প্রায় ২৪ বছর পর কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার কোম্পানীগঞ্জ বদিউল আলম ডিগ্রি কলেজের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত মনোনয়ন প্রথা ভেঙে এবার সরাসরি ভোটের মাধ্যমে অভিভাবক সদস্য নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ১২ মার্চ এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে কলেজ কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত দুই যুগের বেশি সময় ধরে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও কলেজ প্রতিষ্ঠাতার ঘনিষ্ঠজনদের নিয়ে একটি সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে। তাদের প্রভাবেই দীর্ঘদিন কোনো নির্বাচন ছাড়াই অর্থের বিনিময়ে অভিভাবক সদস্য মনোনীত করার অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, যারা অর্থের বিনিময়ে অভিভাবক সদস্য হয়েছেন তাদের অনেকেই কলেজ সুপার মার্কেট ও কলেজ মার্কেটের অন্তত একটি করে দোকান ভিটা নিজেদের নামে নিয়েছেন। কেউ কেউ আবার একাধিক ভিটার মালিকও হয়েছেন।
সাবেক কয়েকজন অভিভাবক সদস্যের সূত্রে জানা যায়, কলেজের অধ্যক্ষ ও প্রিজাইডিং কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে অভিভাবক সদস্য হওয়া গেছে। কলেজ মার্কেট নির্মাণের পর যারা অভিভাবক সদস্য হয়েছেন তাদের প্রায় সবাই দোকানের ভিটা পেয়েছেন। বর্তমানে আবারও অর্থের বিনিময়ে ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে জানা যায়, প্রায় ৯ লাখ টাকার বিনিময়ে সমঝোতার মাধ্যমে তিনজন প্রার্থীকে অভিভাবক সদস্য হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়। পরে অনানুষ্ঠানিকভাবে তাদের নামও ঘোষণা করা হয়। তারা হলেন—আলমাস মেম্বার, গোলাম মোস্তফা ও মনির হোসেন। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।
এ ঘটনার প্রতিবাদে কলেজের শিক্ষার্থী, স্থানীয় যুবসমাজ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা একত্রিত হয়ে প্রতিবাদ জানান। তীব্র প্রতিবাদের মুখে কলেজ কর্তৃপক্ষ শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়।
রোববার (৮ মার্চ) কলেজ কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। আকস্মিক এ সিদ্ধান্তে প্রার্থীরা প্রচার-প্রচারণার জন্য মাত্র তিন দিন সময় পাচ্ছেন। এতে কিছুটা অসন্তোষ থাকলেও প্রার্থীরা নির্বাচনে অংশগ্রহণে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয়দের দাবি, ১৯৯৪ সালের পর সর্বশেষ ২০০২ সালে কলেজটিতে ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে সমঝোতার মাধ্যমে কমিটি গঠন করা হয়। প্রতি বছরই কয়েকজন প্রার্থী নির্বাচনে আগ্রহ দেখালেও স্থানীয় প্রভাবশালীদের কারণে নির্বাচন আর হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
দীর্ঘদিন পর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ায় এলাকায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। প্রার্থীরাও স্বল্প সময়ের মধ্যে ভোটারদের কাছে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
এ বিষয়ে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম বলেন, আগামী ১২ মার্চ যথাযথ নিয়মে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ইতোমধ্যে ৮ জন প্রার্থীকে ব্যালট নম্বর দেওয়া হয়েছে। তবে ৯ লাখ টাকার বিনিময়ে ম্যানেজিং কমিটির বিষয়টি সঠিক নয়।