চলছে ইরিবোরো মৌসুম। এবারে শীতের বিদায় বেলায় কৃষিমাঠে নেমে পড়ে জীবনের ব্যস্ততা। কুয়াশা সরে যেতেই কাদামাখা জমিতে সারি বেঁধে ব্যস্ত সময় পাড় করেন কৃষকরা। ঠান্ডা উপেক্ষা করে, খালি পায়ে নরম মাটিতে রোপণ করেন সবুজ স্বপ্ন ধানের চারা। প্রতিটি চারার সঙ্গে মিশে থাকছে তাদের ঘাম, বুক ভরা আশা আর আগামী দিনের ভাতের গল্প। নীরবে তাকিয়ে আছে দূরে গাছের সারি, আকাশে রোদের মৃদু হাসি।

এই মাঠেই লেখা হয় তাদের জীবনের গল্প নাম না জানা শ্রমে, নীরব সংগ্রামে, মাটির সঙ্গে মানুষের চিরন্তন বন্ধনে। সব মিলিয়ে, গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলায় শীতের বিদায় লগ্নে কৃষকের মাঠে বোরো চাষের ব্যস্ততা জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ ফিরিয়ে আনছে, যা এই অঞ্চলের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখছে। তবে গতবারের তুলনায় শ্রমিকের মজুরী বৃদ্ধি পেলেও সার সংকট না থাকা এবং নির্বিঘ্ন সেচ ব্যবস্থা চালু থাকায় বিগত বছরগুলোর মতোই বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকরা।

কৃষকদের এ আশা পূরণে ফসল সুরক্ষায় পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা কৃষি বিভাগ। তাঁরা আগাম প্রস্তুতি হিসেবে ক্ষেতের পোকাসহ বিভিন্ন বালাই দমনে মাঠপর্যায়ে পার্চিং ব্যবহার, লিফলেট বিতরণসহ উঠান বৈঠকের মাধ্যমে সতর্কতামূলক প্রচারনায় কাজ করছেন।

এর অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) উপজেলার নলডাঙ্গা ইউনিয়নের মান্দুয়ারপাড়া এলাকায় কৃষকদের নিয়ে উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এলাকার কৃষক-কৃষাণীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশ গ্রহণে প্রাণবন্ত হয়ে উঠে বৈঠকটি।

বৈঠকে উপজেলা কৃষি বিভাগের উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা আব্দুর রব সরকার এলএলপি বাস্তবায়নে চলতি বোরো মৌসুমে নিরবিচ্ছিন্নভাবে বা নির্বিঘ্নে ফসল ঘরে তোলার জন্য কারেন্ট পোকাসহ রোগ ব্যবস্থাপনায় পার্চিং স্থাপনসহ লিফলেট বিতরণ করে কৃষকদের পরামর্শ প্রদান করেন। তিনি জানান, ফসল কাটার পূর্ব মুহুর্ত পর্যন্ত এ সতর্কতামূলক প্রচারনা অব্যাহত থাকবে। এ সময় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

সাদুল্লাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অপূর্ব ভট্টাচার্য্য বলেন, এবারে বাম্পার বোরো ধান উৎপাদনের লক্ষ্যে কৃষকদের কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সব ধরনের কৃষি উপকরণসহ লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ধান চাষের প্রয়োজনীয় রাসায়নিক সার, কীটনাশকসহ অন্যান্য উপকরণ সরবরাহ করা হয়েছে। সঠিক মূল্যে যাতে কৃষকরা তাদের চাহিদা মত সার ক্রয় করতে পারে, সে বিষয়টি কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক মনিটরিং ও নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

ফলে এবারে এ উপজেলায় লক্ষ্য মাত্রার অতিরিক্ত জমিতে ইরি-বোরো ধানের চাষ অর্জিত হওয়ায় কৃষকরা দেখছেন রঙিন স্বপ্ন। ধানের চারা বড় হয়ে ফসলে ভরে উঠবে তাদের গোলা।

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}