দেড় বছর ধরে গাইবান্ধায় ১১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন ১১টি সেতুর কাজ আটকে আছে। এর মধ্যে চারটি সেতুর কাজ শুরুই হয়নি। ফলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয়দের।

 

গাইবান্ধা সড়ক ও জনপদ বিভাগ (সওজ) সূত্র জানায়, জেলায় তিনটি প্যাকেজে ১১টি সেতু নির্মাণকাজ হাতে নেওয়া হয়। এগুলোর মোট দৈর্ঘ্য ৬৮০ দশমিক ৭৩ মিটার। সেতুগুলো নির্মাণে ১১৬ কোটি ১০ লাখ ৭৮ হাজার টাকা ব্যয় ধরা হয়। ‘জরাজীর্ণ, অপ্রশস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বিদ্যমান বেইলি ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ সেতু প্রতিস্থাপন (রংপুর জোন) প্রকল্পের আওতায় গাইবান্ধা জেলা অংশে এসব সেতুর নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

 

সূত্র আরও জানায়, প্রথম প্যাকেজে দুটি সেতু ধরা হয়। একটি করতোয়া নদীর ওপর পলাশবাড়ী-ঘোড়াঘাট সড়কের পলাশবাড়ী উপজেলার করতোয়াপাড়া এলাকায়। আরেকটি সাদুল্লাপুর উপজেলার সাদুল্লাপুর-নলডাঙ্গা সড়কের জামুডাঙ্গা এলাকায় (ঘাঘট-৩) ঘাঘট নদীর ওপর। সেতু দুটির দৈর্ঘ্য ২৪৩ দশমিক ৪৯ মিটার। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৬ কোটি ৫৮ দশমিক ৫২ লাখ টাকা। কাজের দায়িত্ব পায় ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মঈন উদ্দিন (বাশি) লিমিটেড। ২০২২ সালের ২ অক্টোবর সেতু দুটির কাজ শুরু হয়। কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৪ সালের ৭নভেম্বর। এ সময়ে শুধু করতোয়াপাড়া এলাকার সেতুর কাজ সম্পন্ন হয়েছে। জামুডাঙ্গা এলাকায় সেতুর পিলার ও পাটাতন কাজ সম্পন্ন হয়। কিন্তু সংযোগ সড়কের কাজ হয়নি। প্রতিষ্ঠানটির প্রকল্প পরিচালক সৈয়দ ইমতিয়াজ হোসেন মুঠোফোনে বলেন, ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতায় সড়ক বিভাগ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে জায়গা বুঝে দিতে পারেনি। দ্বিতীয় প্যাকেজে ছয়টি সেতুর কাজ হাতে নেওয়া হয়। এর মধ্যে গাইবান্ধা-সুন্দরগঞ্জ সড়কের জেলা শহরের নিউ ব্রিজ রোড এলাকায় ঘাঘট নদীর ওপর একটি, সদর উপজেলার মাঠেরহাট এলাকায় একটি, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হলহলিয়া এলাকায় একটি, বাজারপাড়া এলাকায় একটি ও কদমতলি এলাকায় ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার শাকদহ এলাকায় একটি। ২০২২ সালের ৬ ডিসেম্বর সেতুগুলোর নির্মাণকাজ শুরু হয়। গত ৮ জানুয়ারি কাজ শেষ করার কথা ছিল। নিউ ব্রিজ রোড এলাকায় (ঘাঘট-২) এবং শাকদহ সেতুর পিলার ও পাটাতন কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সংযোগ সড়ক হয়নি। মাঠেরহাট এলাকায় সেতুর পাইল নির্মাণের পর কাজ বন্ধ আছে। তৃতীয় প্যাকেজে আছে তিনটি সেতু। এগুলো হচ্ছে সাঘাটা উপজেলায় বারোকোনা-জুমারবাড়ী-সোনাতলা সড়কের বাজিতনগর এলাকায় একটি ও একই সড়কের কালিতলা এলাকায় একটি। অপরটি আলাই নদীর ওপর গাইবান্ধা-বালাশীঘাট সড়কের সদর উপজেলার পুলবন্দী এলাকায়।

 

গাইবান্ধা সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী পিয়াস কুমার সেন বলেন, ভূমি অধিগ্রহণ সমস্যার কারণে ১১টির মধ্যে চারটি সেতুর কাজ শুরু করা যায়নি। অন্যান্য সেতুর কাজ বিভিন্ন পর্যায়ে থেমে আছে। সেতুগুলোর কাজ সম্পন্নের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান তিনি।

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}