চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালী থানার টেরিবাজার এলাকায় একটি বহুতল মার্কেটে অগ্নিকাণ্ডে দুজন নিহত হয়েছেন। ঈদের আগমুহূর্তে ব্যস্ত এই বাণিজ্যিক এলাকায় ঘটে যাওয়া ঘটনায় অন্তত সাতটি দোকান পুড়ে গেছে বলে জানা যায় এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে টেরিবাজারের কেবি অর্কিড প্লাজা নামে ১২ তলা বিশিষ্ট ভবনের চতুর্থ তলায় একটি টেইলার্সের দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে তথ্যসূত্র জানাযায়। ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানা যায় সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে আগুন লাগার খবর পেয়ে দুটি স্টেশনের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় সকাল ১০টা ৫৩ মিনিট থেকে বেলা ১১টার মধ্যে আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আসে।

অগ্নিকাণ্ডে নিহতরা হলেন, পটিয়া উপজেলার বধুপুর এলাকার মোহাম্মদ ইউনুস (৫২) এবং বোয়ালখালী এলাকার সোলাইমান। তাঁরা দুজনই চতুর্থ তলার একটি টেইলার্সের কর্মচারী ছিলেন। আগুনে আহত কয়েকজনকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল ও চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসক দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন। ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল মন্নান জানান, মার্কেট-কাম-রেসিডেন্স ধরনের ভবনটির চতুর্থ তলায় আগুন লাগলেও দ্রুত তা নিয়ন্ত্রণে এনে ওই ফ্লোরেই সীমাবদ্ধ রাখা সম্ভব হয়েছে। তবে আগুনের তীব্রতা ও ধোঁয়ার কারণে ওপরের কয়েকটি তলাও আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফায়ার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগুনে চতুর্থ তলার টেইলারিং শপ ও কাপড়ের দোকানসহ অন্তত সাতটি দোকান পুড়ে গেছে। কিছু ক্ষেত্রে চারটি দোকানের ক্ষয়ক্ষতির কথাও বলা হয়েছে।

ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়া অন্তত তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সেহরির পর থেকে এলাকায় বিদ্যুৎ ছিল না। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিদ্যুৎ ফিরে আসার পরপরই আগুন লাগে।

টেরিবাজার ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, যে দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত, সেখানে কর্মচারীদের বেতন-বোনাস দেওয়ার জন্য আনুমানিক ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা নগদ রাখা ছিল। কেবি অর্কিড প্লাজার নিচের পাঁচ তলায় শপিং মল এবং ওপরের তলাগুলোতে আবাসিক ফ্ল্যাট রয়েছে। ভবনটিতে জুয়েলারি দোকান, ব্যাংকের শাখা, টেইলার্সসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। আগুন লাগার সঠিক কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}