ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রথমবারের মত ইটভাটা মালিকদের দিনব্যাপী ঈদ পুনর্মিলনী ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
২৬ মার্চ বৃহস্পতিবার দৌলত ব্রিকস এন্ড কোং এর আয়োজনে সকাল ১০টায় শহরের মৌলভীপাড়াস্থ স্মৃতি চাইনিজ রেস্টুরেন্টে দৌলত ব্রিকস এন্ড কোং এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর এমএনএইচ খাদেম দুলালের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ইট প্রস্তুতকারী মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ফিরোজ হায়দার খান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষ ও কিশোরগঞ্জ জেলা সমিতির সভাপতি মো. খালেকুজ্জামান, কেন্দ্রীয় সমিতির উপদেষ্টা ও নারায়ণগঞ্জ জেলা সমিতির সভাপতি মো. মমিন খান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন থেকে তিলাওয়াত ও মোনাজাত পরিচালনা করেন অনুষ্ঠানের সভাপতি এমএনএইচ খাদেম দুলাল। প্রধান অতিথিকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন স্বাগতিকরা।
মতবিনিময় সভায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া ইট প্রস্তুতকারী মালিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. মোজাহিদুল ইসলামের পরিচালনায় জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত ইট প্রস্তুতকারী মালিকগণ তাদের বক্তব্যে বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ইতিহাসে এই প্রথম এতগুলো মালিক একসাথে বসেছি। এরপূর্বে যারা দায়িত্বে ছিলেন তারা কখনো আমাদের নিয়ে এভাবে বসেননি। আমাদের একটি কমিটি আছে তার কী কী কাজ তাও আমাদের জানানো হয়নি। যার ফলে আমরা সকল মালিকগণ বিচ্ছিন্ন ছিলাম।
শতাধিক মালিকের উপস্থিতিতে তাদের থেকে বিজয়নগর উপজেলা টিএনসি ব্রিকস ফিল্ড কোং এর মালিক কাজী রফিকুল ইসলাম ৬টি দাবি উল্লেখ করে বলেন, ১. ইটভাটা বন্ধ করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক হতে মালিকদের ভর্তুকি দিয়ে ব্যবসা স্থানান্তর করতে হবে, অথবা সরকারি নীতিমালায় ক্ষতিপূরণ দিয়ে ইটভাটা বন্ধ করতে হবে, ২. ইটভাটায় মাটি কাটার জন্য নীতিমালা প্রণয়ন ও অনুমোদন আবেদন ত্রিশ কার্য দিবসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে, ৩. পরিবেশ আইনে অমানবিক নীতিমালাগুলো সংশোধন করা, ৪. শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে এক হাজার মিটার দূরত্ব থেকে কমিয়ে চারশতো মিটার দূরত্ব আইন প্রণয়ন করা ও ৫. ইটভাটার লাইসেন্স ওয়ান স্টপ সার্ভিস প্রদান করতে হবে।
অন্যান্য মালিকরা প্রশ্ন করে বলেন, পরিবেশ আইন কি শুধু ইটভাটা মালিকদের জন্য প্রযোজ্য? তাছাড়া ইটভাটার মৌসুম শুরু হলেই পরিবেশ অধিদপ্তরের আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়া হয়। এর আগে তারা এসব বিষয়ে কোন দিকনির্দেশনা দেয় না। অধিকাংশ মালিকই হলুদ সাংবাদিকতা ও অপসাংবাদিকদের দৌড়াত্বের কথা উল্লেখ করেন।
এছাড়াও বক্তব্য দেন শাহীনুর ইসলাম শাহীন, শফিকুল ইসলাম, বিল্লাল মিয়া, স্বপন পালসহ আরো অনেকেই।