চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মোঃ জিয়াউদ্দিন বলছেন, মুক্তিযুদ্ধের প্রেরণাকে ধারণ করে একটি বৈষম্যহীন, শোষণমুক্ত, সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ দেশ রেখে যাওয়াই সরকারের লক্ষ্য।

বিভাগীয় কমিশনার ২৬ মার্চ বৃহস্পতিবার, চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস প্রাঙ্গণে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন আয়োজিত মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বীর মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দের সংবর্ধনা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

বিভাগীয় কমিশনার বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী সকল শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ।একই সঙ্গে দেশ রক্ষার সংগ্রামে সম্ভ্রম হারানো নারীদের প্রতি বিশেষ সম্মান ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে বীর মুক্তিযোদ্ধারা জীবন বাজি রেখে যে অসাধারণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, তা আজও আমাদের অনুপ্রেরণার উৎস।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত জীবিত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বিভাগীয় কমিশনার তাদের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে বলেন, তাদের উপস্থিতিতে আয়োজনটি আরও গৌরবমণ্ডিত হয়েছে এবং প্রকৃতপক্ষে আয়োজকরাই তাদের মাধ্যমে সংবর্ধিত হয়েছেন।

বিভাগীয় কমিশনার আরো বলেন, দেশের ইতিহাসে যখনই গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বা ন্যায়ের পথ থেকে বিচ্যুতি ঘটেছে, তখনই জনগণ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে রাজপথে নেমে এসেছে। তিনি দৃঢ় বিশ্বাস ব্যক্ত করেন যে, মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা ও আদর্শই রাষ্ট্র পরিচালনার ভিত্তি হওয়া উচিত।

সভাপতির বক্তৃতায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের অসীম ত্যাগ ও আত্মদানের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতাই বাঙালির শ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি। সেই মহান উপহারকে কেন্দ্র করেই আজকের এই আয়োজন। তিনি বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আমরা যে সংবর্ধনাই দেই না কেন, তা কখনোই তাদের আত্মত্যাগের তুলনায় যথেষ্ট নয়। বরং তাদের উপস্থিতিই আমাদের জন্য গৌরব ও প্রেরণার উৎস। এছাড়াও , মুক্তিযোদ্ধাদের সংস্পর্শে এলে দেশপ্রেম আরও দৃঢ় হয় এবং সেই প্রেরণাতেই একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় জাগ্রত হয়।

জেলা প্রশাসক বলেন, বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা এক নদী রক্ত প্রবাহিত করেছেন, আমরা সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে সকল নাগরিক সমান সুযোগ পাবে এবং মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, দেশের অগ্রযাত্রায় গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হয়েছে, যা মুক্তিযোদ্ধাদের ত্যাগেরই ফল। তারা দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন যে, এ জাতি কখনো পরাজয় মেনে নেয়নি এবং আগামীতেও নেবে না।

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ফয়সাল আহম্মেদ, চট্টগ্রাম অতিরিক্ত রেঞ্জ ডিআইজি নাজমুল হক , চট্টগ্রাম পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁন বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন চট্টগ্রাম অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সাখাওয়াত জামিল সৈকত স্বাগত বক্তৃতা করেন ।

অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধাবৃন্দ এবং সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক শিক্ষার্থীসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}