​“মিলি যখন ছোট, তখন থেকেই ও বলত— মা, আমি বড় হয়ে ডাক্তার হব, গ্রামের গরিব মানুষের সেবা করব। ওর বাবা মারা যাওয়ার পর আমি খেয়ে না-খেয়ে ওকে পড়িয়েছি শুধু ওই স্বপ্নটার দিকে তাকিয়ে। কিন্তু আজ আমার সেই মা-মণিটা হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে। ও কি তবে আর কোনোদিন ক্লাসে ফিরবে না?” ​ক্লান্ত চোখ আর কান্নায় ভেজা কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন ক্যান্সারে আক্রান্ত মেধাবী শিক্ষার্থী সামিয়া জামান মিলির মা সেলিনা বেগম। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে আজ এক অন্ধকার ভবিষ্যতের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে যশোরের মণিরামপুর উপজেলার হাজরাকাটি গ্রামের এই অকুতোভয় লড়াকু মেয়েটি। ​মণিরামপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী মিলি। ২০২০ সালে যখন সে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী, তখনই মাথার ওপর থেকে বাবার ছায়া সরে যায়। বাবা নবীরুজ্জামানের অকাল মৃত্যুতে পরিবারটি অথৈ সাগরে পড়লেও দমে যায়নি মেধাবী মিলি। দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করে মেধার স্বাক্ষর রেখে সে স্বপ্ন দেখছিল চিকিৎসক হওয়ার। কিন্তু কয়েকমাস আগে হঠাৎ অসুস্থতা তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ​স্থানীয় চিকিৎসকদের পরামর্শে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ধরা পড়ে— মিলির শরীরে বাসা বেঁধেছে মরণব্যাধি ক্যান্সার। বর্তমানে সে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. আব্দুল বারীর তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন।

​মিলির এমন অবস্থায় ব্যথিত তার কলেজের শিক্ষকরাও। মিলির কলেজের রসায়ন বিজ্ঞানের শিক্ষক সহকারি অধ্যাপক মোহাম্মাদ বাবুল আকতার আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন,​মিলি শুধু একজন শিক্ষার্থী নয়, সে আমাদের কলেজের সম্পদ। বিজ্ঞানের মতো কঠিন বিষয়েও তার দখল ছিল অসাধারণ। একটি মেধাবী প্রাণ এভাবে অর্থের অভাবে ঝরে যাবে, তা মেনে নেওয়া যায় না। ‘মানুষ মানুষের জন্য’— এই চিরন্তন সত্যকে সামনে রেখে আজ যদি সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে না আসেন, তবে আমরা একজন ভবিষ্যৎ চিকিৎসককে হারাবো, হারাবো একজন মেধাবী শিক্ষার্থীকে। ​ইতিমধ্যেই মিলির শরীরে অত্যন্ত ব্যয়বহুল কেমোথেরাপি শুরু হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদী এই চিকিৎসার খরচ বহনের মতো সামর্থ্য তার বিধবা মায়ের নেই।

জমিজমা বা সঞ্চয় বলতে কিছুই নেই এই পরিবারের। ডাক্তাররা জানিয়েছেন, মিলিকে সম্পূর্ণ সুস্থ করতে প্রয়োজন অনেক টাকা, যা সংগ্রহ করা এই হতদরিদ্র পরিবারের পক্ষে পাহাড়সম বাধা। ​সকলেই মিলে মিলির স্বপ্নকে বাঁচাই ​মিলি বাঁচতে চায়। সে আবার ফিরে যেতে চায় তার প্রিয় কলেজের ক্লাসরুমে, হাতে তুলে নিতে চায় বই। তার এই অসম লড়াইয়ে আপনার সামান্য সহানুভূতি বা সাহায্য হতে পারে একটি জীবনের সঞ্জীবনী সুধা। ​সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা: ​ব্যাংক হিসাব: আইএফআইসি ব্যাংক লিমিটেড (IFIC Bank Ltd.) ​হিসাব নম্বর: ০২৩০০০৫৫৮৯৮৫১ (সঞ্চয়ী) ​বিকাশ (পার্সোনাল): ০১৮৮৭-১৪০১৯৯ ​আপনার ভালোবাসা ও সহযোগিতায় হয়তো বেঁচে যাবে একটি প্রাণ, পূরণ হবে একজন এতিম মেয়ের চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন।

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}