গাইবান্ধার পলাশবাড়ি পৌর শহরে পৈতৃক সম্পত্তি জবরদখল করে ঘর উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে আপন ভাইদের বিরুদ্ধে। প্রতিকার চেয়ে দু’বছর ধরে থানা প্রশাসন, পৌরসভা ও সেনা ক্যাম্পে অভিযোগ করে দিনের পর দিন ধরনা দিয়েও বিচার না পেয়ে উল্টো বিবাদী পক্ষের হামলার শিকার ও প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের হয়রানির শিকার হয়েছে এক ভুক্তভোগী পরিবার।

ভুক্তভোগী পরিবার পলাশবাড়ী পৌরসভার গৃধারীপুর গ্রামের মনোয়ার হোসেনের স্ত্রী লাভলী বেগম।

তফশিল বর্ণিত জমি মৌজা-গৃধারীপুর জেএল নং-৭০, খতিয়ান নং-৮১ হাল খতিয়ান নং-৮২৫ দাগ নং-৭৩০, ৭২৮ হাল দাগ নং-৪৯ মোট জমি ২০ শতক এর মধ্যে ১০ শতক বাস্তুভিটা নালিশী জমি।

ঘটনার বিবরণীতে জানা যায়, তফশিল বর্ণিত জমি কবলা দলিলমুলে প্রাপ্ত লাভলী বেগম। তার বাবা দাতা মোংলা মামুদ শেখ ৫ ছেলে ও ২ মেয়ের মাঝে ৭১ শতাংশ জমি ভাগ করে দেয়। লাভলী বেগম ছোট মেয়ে হওয়ায় তার বিবাহ এর ০১ বছরের মধ্যে বাড়ীতে নিয়ে আসে এবং স্থায়ী ভাবে বাস্তুভিটা জমিতে
বাড়ী করে দেয়। এরপর গত ২০ বছরের অধিক সময় ধরে বাবাকে দেখাশুনা করে। এরই প্রেক্ষিতে বাবা মোংলা মামুদ ছোট মেয়ে লাভলী বেগমের উপর খুশি হয়ে ১০ শতাংশ জমি মেয়ে লাভলী ও নাতনী লিজার নামে লিখে দেয় বাবা মোংলা মামুদ শেখ।

জমি লিখে দেয়ার পর থেকেই ঈর্ষানীত হয়ে পড়ে লাভলী বেগমের বড় ভাইয়েরা। তারা লাভলী বেগম ও তার ছেলে মেয়েদের বসত বাড়ীতে বসবাস করতে দিবে না, উচ্ছেদ করবে মর্মে জন্মদাতা পিতা মোংলা মামুদকে হুমকী ধামকী প্রদান সহ জমি জবরদখল করে টিনশেড ঘর নির্মাণ করার পাঁয়তারা করে বৃদ্ধ মোংলা মামুদ এর ছেলে জলিল, খাজা মিয়া, মন্টু, বাবলু মিয়া সহ আরো দু একজন। এরই প্রেক্ষিতে অফিসার ইনচার্জ (ওসি), বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অস্থায়ী ক্যাম্প গাইবান্ধা বরাবর একটি অভিযোগ দায়ের করেন মোংলা মামুদ।

এর বেশ কিছুদিন পর নিজ নামে দলিলকৃত ভিটেতে ঘর বাড়ী করার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করে জমিতে মাটি খনন করেন লাভলী বেগম। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে লাভলী বেগম এর ভাইয়েরা জোরপূর্বক অন্যায়ভাবে জমিতে একটি টিনের ছাপড়া ঘর উত্তোলন করেন।

এরপর, ০৮/০৪/২০২৫ তারিখে মোংলা মাহমুদ মৃত্যুবরণ করেন। বাবার মৃত্যুর পর লাভলী বেগমের জমিতে তার ভাইয়েরা পেশী শক্তি প্রয়োগ করে আবারো একটি ঘর উত্তোলন করে।

উক্ত বিষয়ে,লাভলী বেগম শালিস বৈঠকের আয়োজন করলে ভাইয়েরা কোন প্রকার শালিস না মেনে উল্টো হুমকি ধামকি প্রদান করেন তার ভাইয়েরা। সেই সাথে ভাই এবং ভাতিজাদের হামলার শিকার হয়ে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বেশ কিছুদিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকেন লাভলী বেগম ও তার পরিবার।

এমন ঘটনার বারংবার প্রতিকার চেয়ে প্রায় দু,বছর ধরে থানা প্রশাসন, পৌরসভা ও সেনা ক্যাম্পে অভিযোগ করেন এই ভুক্তভোগী পরিবার।

এমতাবস্থায়, ভুক্তভোগী পরিবারটি ন্যায়বিচার পেতে ২৯ মার্চ রোববার দুপুরে পলাশবাড়ী পৌর প্রশাসক বরাবর পুনরায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

এমন ঘটনায় যেকোন সময় উভয় পক্ষের মধ্যে দাঙ্গা-হাঙ্গামাসহ আইন শৃঙ্খলা অবনতির আশু সম্ভাবনা আছে বলে জানান স্থানীয়রা। তারা সুষ্ঠু সমাধানের জন্য স্থানীয় সরকার, জনপ্রতিনিধি এবং জেলা প্রশাসকের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}