নেত্রকোণার কলমাকান্দা উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের উপ-সহকারী কর্মকর্তা মো. সুরুজ আলীর বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারে বিক্ষোভ করেছেন সেবা নিতে আসা গবাদিপশুপালকরা।
সম্প্রতি সুরুজ আলীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে সোমবার (৩০ মার্চ) সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভেটেরিনারী ফার্মেসীর মালিক মো. আনোয়ার হোসেন।
এবিষয়ে জানতে চাইলে প্রাণিসম্পদ দপ্তরের উপ-সহকারী কর্মকর্তা মো. সুরুজ আলী বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুরে জানান যে, আনোয়ার হোসেনের কথামতো প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে সেবা নিতে আসা পশুপালকদের তার ফার্মেসী থেকে ঔষধ না নিতে বলায় ক্ষিপ্ত হয়ে সে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে।
বুধবার (১ এপ্রিল) কলমাকান্দা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে সেবা নিতে আসা শতাধিক সেবাগ্রহীতারা জানান যে, এ উপজেলার একমাত্র সুরুজ আলীই তাদের পশুগুলোর জন্য রাতবিরেতে ছুটে যান। মানসম্মত চিকিৎসা দেন। তাই একটি কুচক্রী মহল যারা ভুলভাল চিকিৎসা দিয়ে আমাদের প্রতারিত করেন তারা সুরুজ আলীকে দেখতে পারেন না। আমরা তার জন্য প্রয়োজনে মিছিল করবো তবু আমরা সুরুজ আলীর কোন ক্ষতি হতে দিব না।
সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা যায়, মো. আনোয়ার হোসেন কলমাকান্দা উপজেলা পরিষদের মোড়ে একটি অনুমোদনবিহীন ভেটেরিনারি ফার্মেসী চালান। সেখানে মেয়াদোত্তীর্ণ ও নিম্নমানের বিভিন্ন ঔষধ বিভিন্ন রেকে সাজানো রয়েছে। এবিষয়ে জানতে চাইলে আনোয়ার হোসেন জানান, আগে হিউম্যানদের ফার্মেসী ছিল তখনও কাগজপত্র ছিল না। আর এখন ভেটেরিনারি ফার্মেসীরও কাগজপত্র নেই, সেটা বিষয় না। সুরুজ আলীর বিরুদ্ধে আমি অভিযোগ দায়ের করেছি সেটাই বিষয়।
এব্যাপারে কলমাকান্দার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মিকাইল ইসলাম বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুরে বলেন, “আমরা ফার্মেসিটির বিষয় খোঁজ নিয়ে দেখবো। সুরুজ মিয়ার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত অভিযোগটিও হাতে পেয়েছি। এ বিষয়ে সঠিক তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে ইতোমধ্যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কনিকা সরকার বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুরে বলেন, “সুরুজ আলী দীর্ঘদিন ধরে এখানে কর্মরত, এখানে সেবা নিতে আসা নাগরিকরা সবসময়ই তার প্রশংসা করেন। আনোয়ার হোসেন তার বিরুদ্ধে কেন অভিযোগ দিলেন সেবিষয়ে আমরা তদন্ত করছি।