ববর্ষ পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা। বছরের অন্যান্য সময় তুলনামূলক কম কাজ থাকলেও ফাল্গুন থেকে বৈশাখ—এই তিন মাস তাদের জন্য সবচেয়ে কর্মব্যস্ত মৌসুম। নারী-পুরুষ থেকে শুরু করে শিশু-কিশোরসহ সব বয়সী কারিগর এখন মাটির নানা সামগ্রী তৈরিতে ব্যস্ত।
নববর্ষকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে বসে বৈশাখী মেলা। এসব মেলায় মাটির তৈরি খেলনা ও তৈজসপত্রের ব্যাপক চাহিদা থাকে। তাই শেষ মুহূর্তে দিন-রাত সমানতালে কাজ করছেন মৃৎশিল্পীরা। ইতোমধ্যে মাটির পণ্য পোড়ানোর কাজ শেষ হয়েছে, চলছে রঙের চূড়ান্ত পর্ব।
তবে আধুনিকতার ছোঁয়ায় ঐতিহ্যবাহী এই মৃৎশিল্প আজ বিলুপ্তির পথে। তবুও বংশপরম্পরায় পাওয়া পেশা ও জীবিকার তাগিদে নবীনগরের অনেকেই এখনও এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত আছেন। তাদের তৈরি কলস, হাঁড়ি, মটকা, বাসন, ডালা, পুতুলসহ নানা কারুকাজ গ্রামীণ মেলায় ক্রেতাদের আকৃষ্ট করে।
স্থানীয় মৃৎশিল্পীরা জানান, প্লাস্টিক ও অ্যালুমিনিয়ামের পণ্যের আধিপত্যে মাটির জিনিসের চাহিদা আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে। তবে পহেলা বৈশাখের মেলায় এখনও এসব পণ্যের কদর রয়েছে এবং এই সময়টাতেই তারা কিছুটা ভালো বিক্রি করতে পারেন।
মৃৎশিল্পী মহেন্দ্র পাল বলেন, “আগে মাটির জিনিসপত্র খুব ভালো বিক্রি হতো। কিন্তু এখন অ্যালুমিনিয়াম ও প্লাস্টিকের কারণে সেই চাহিদা নেই। তার ওপর কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমাদের লাভও কমে গেছে। সরকারি কোনো সহযোগিতাও আমরা পাই না।”
জানা গেছে, একসময় নবীনগর উপজেলায় কয়েকশত মৃৎশিল্পী কাজ করতেন। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে বর্তমানে হাতে গোনা কয়েকজন কারিগরই এই পেশায় টিকে আছেন। যদিও কিছু বছর আগে উপজেলা পরিষদ ও একটি বেসরকারি সংস্থার উদ্যোগে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছিল, তার সুফল খুব বেশি দেখা যায়নি।
মৃৎশিল্পীরা মনে করেন, নিয়মিত প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে ঋণ এবং বাজারজাতকরণের সুযোগ সৃষ্টি করা গেলে এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে। অন্যথায় ধীরে ধীরে হারিয়ে যাবে বাংলার প্রাচীন এই শিল্প ঐতিহ্য।