স্বপ্ন ছিল সাদা অ্যাপ্রন পরে মানুষের সেবা করার। কিন্তু নির্মম বাস্তবতায় সেই স্বপ্ন আজ থমকে গেছে হাসপাতালের বেডে। ক্যান্সারে আক্রান্ত মেধাবী শিক্ষার্থী সামিয়া জামান মিলি এখন মৃত্যুর সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করছে।

যশোরের মণিরামপুর মহিলা ডিগ্রি কলেজের দ্বাদশ (বিজ্ঞান) বিভাগের এই ছাত্রী বর্তমানে ঢাকায় চিকিৎসাধীন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তার শরীরে চলছে ব্যয়বহুল কেমোথেরাপি। তবে প্রতিটি সেশনের খরচ পরিবারটির জন্য হয়ে উঠেছে অসহনীয় বোঝা।
মিলির মা সেলিনা বেগম, স্বামীহারা এক অসহায় নারী। একমাত্র মেয়েকে বাঁচাতে এখন তিনি দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন,
“আমার মেয়েটা খুব মেধাবী। ও ডাক্তার হতে চেয়েছিল। এখন শুধু বাঁচতে চায়। কিন্তু টাকার অভাবে চিকিৎসা থেমে যাওয়ার উপক্রম। আমি আর পারছি না।”
মণিরামপুর উপজেলার সদর ইউনিয়নের হাজরাকাটি গ্রামের প্রয়াত নবীরুজ্জামানের মেয়ে মিলির চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও বিপুল অর্থ। ইতোমধ্যে পরিবারের সামান্য সঞ্চয় শেষ হয়ে গেছে। এখন তারা সম্পূর্ণভাবে সমাজ ও রাষ্ট্রের সহায়তার দিকে তাকিয়ে আছে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সময়মতো কেমোথেরাপি চালিয়ে যেতে পারলে মিলির সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু অর্থের অভাবে চিকিৎসা বন্ধ হয়ে গেলে পরিস্থিতি মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে।
এদিকে সহপাঠী, শিক্ষক ও এলাকাবাসীর মাঝে ব্যাপক উদ্বেগ ও সহানুভূতি সৃষ্টি হয়েছে। ব্যক্তিগত উদ্যোগে কিছু সহায়তা এলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল।
এমন মানবিক সংকটে এখন জরুরি হয়ে উঠেছে প্রশাসনের সরাসরি হস্তক্ষেপ। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সমাজসেবা অফিস, জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত সহায়তা কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, প্রবাসী ও দানশীলদের আন্তরিক সহযোগিতায় মিলির চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব। আপনার সামান্য সহায়তাই ফিরিয়ে দিতে পারে একটি জীবন, একটি স্বপ্ন। মিলি আবারও ফিরতে চায় তার শ্রেণিকক্ষে—বইয়ের কাছে, স্বপ্নের পথে।

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}