রাজশাহীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল বোয়ালিয়া পূর্ব থানা শাখার বহিষ্কৃত নেতা মোঃ তরিকুল ইসলাম তারেক-এর বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ফেস্টুনে দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে নববর্ষের শুভেচ্ছা প্রচারণা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক ও বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ফেসবুকে “Tarique Rahman” নাম ব্যবহার করা একটি আইডি থেকে “সবাইকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা” বার্তা পোস্ট করা হয়। পোস্টটিতে #BNP, #TariqueRahman সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করা হয়। একইসঙ্গে “100k”, “original”, “everyone” ইত্যাদি ট্যাগ যুক্ত করা হয়, যা পোস্টটির ব্যাপক প্রচারের উদ্দেশ্য নির্দেশ করে বলে মনে করা হচ্ছে।

পোস্টের সঙ্গে যুক্ত একটি ফেস্টুনে নিজেকে উল্লেখ করা হয়েছে—“মো: তরিকুল ইসলাম তারেক, দপ্তর সম্পাদক, স্বেচ্ছাসেবক দল বোয়ালিয়া থানা শাখা” হিসেবে।

পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হলে রহস্যজনকভাবে পোস্টটি ফেসবুক থেকে ডিলিট করা হয়। তবে এর আগেই পোস্ট ও ফেস্টুনের স্ক্রিনশট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।

এদিকে কয়েকজনের কাছে তরিকুল ইসলাম তারেক দাবি করেন যে তার বহিষ্কার আদেশ তুলে নেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে রাজশাহী মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, বহিষ্কার প্রত্যাহারের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

অন্যদিকে কেন্দ্রীয় কমিটি কিংবা রাজশাহী মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া পেজ ও ওয়েবসাইটেও বহিষ্কার প্রত্যাহার সংক্রান্ত কোনো তথ্য বা বিজ্ঞপ্তি পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় কমিটির ১৫ অক্টোবর ২০২৫ তারিখের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তাকে দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগে দলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। ওই বিজ্ঞপ্তিতে আরও নির্দেশনা দেওয়া হয় যে, বহিষ্কৃত ব্যক্তির সঙ্গে কোনো ধরনের সাংগঠনিক যোগাযোগ না রাখার জন্য দলের সকল নেতাকর্মীকে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি এস এম জিলানী এবং সাধারণ সম্পাদক রাজিব আহসান এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন।

বহিষ্কারের পরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ফেস্টুনে দলীয় পরিচয় ব্যবহার করায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে—দলীয় পদ ও পরিচয় বহিষ্কারের পরও কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং এটি কি বিভ্রান্তিকর প্রচারণার অংশ কি না।

এ ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে এখন নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট দলের পরবর্তী অবস্থান ও ব্যাখ্যার দিকে।

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}