চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে চাঞ্চল্যকরভাবে রগ কেটে ও কুপিয়ে কৃষক জাহাঙ্গীর আলম শামিমকে হত্যার ঘটনায় অন্যতম পলাতক আসামি মোঃ সোহেলকে (২৬) গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৭, চট্টগ্রাম। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে রাঙ্গুনিয়া থানার লিচু বাগান এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

 

র‌্যাব-৭ সূত্রে জানা যায়, নিহত জাহাঙ্গীর আলম শামিম চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার দক্ষিণ শিবপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং পেশায় একজন কৃষক ছিলেন। আসামিদের সঙ্গে তার পূর্বপরিচয় ছিল এবং তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। পাওনা টাকা নিয়ে কয়েক দফা ঝগড়া-বিবাদ, হুমকি এবং মারধরের ঘটনাও ঘটেছিল বলে জানা গেছে।

 

র‌্যাব জানায়, গত ৮ এপ্রিল ২০২৬ রাত আনুমানিক ১১টার দিকে আসামিরা শামিমকে তার পাওনা টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে মোবাইল ফোনে ডেকে নেয়। পরে তাকে সীতাকুণ্ড থানার ভাটেরখীল এলাকার হাবিব রোডের পশ্চিম পাশে নতুন রোডে অবস্থিত স্থানীয় বাসিন্দা ইসমাইল বলির বাড়ির সামনে যেতে বলা হয়।

 

শামিম নির্ধারিত স্থানে পৌঁছালে আগে থেকেই ওৎ পেতে থাকা আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা চায়নিজ কুড়াল, ছুরি, চাপাতি, রামদা এবং লোহার পাইপসহ দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। একপর্যায়ে তারা শামিমের পায়ের রগ কেটে দেয়, যাতে তিনি পালাতে না পারেন এবং নিশ্চিতভাবে মৃত্যু ঘটে। পরে ঘটনাস্থলে তাকে ফেলে রেখে আসামিরা দ্রুত পালিয়ে যায়।

 

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে ১০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে সীতাকুণ্ড থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১০ জনকে এজাহারভুক্ত আসামি এবং আরও ৪-৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়। মামলাটি পেনাল কোড ১৮৬০ এর ৩৪১/৩০২/১০৯/৩৪ ধারায় রুজু করা হয়েছে।

 

ঘটনার পরপরই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে র‌্যাব-৭, চট্টগ্রাম গোয়েন্দা নজরদারি ও ছায়া তদন্ত শুরু করে। বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ, প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

 

তদন্তের এক পর্যায়ে র‌্যাব জানতে পারে, মামলার অন্যতম পলাতক আসামি মোঃ সোহেল আত্মগোপন করে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া এলাকায় অবস্থান করছে। এরপর ১৪ এপ্রিল ২০২৬ সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ৫৫ মিনিটে র‌্যাব-৭ এর একটি আভিযানিক দল রাঙ্গুনিয়া থানার লিচু বাগান এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

 

গ্রেফতারকৃত সোহেল সীতাকুণ্ড উপজেলার মধ্যম ভাটেরখিল গ্রামের আবুল হাসেমের ছেলে। তিনি এই হত্যা মামলার ৫ নম্বর এজাহারভুক্ত পলাতক আসামি।

 

র‌্যাব জানায়, গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে সীতাকুণ্ড থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

র‌্যাব-৭ এর সহকারী পুলিশ সুপার ও সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এ. আর. এম. মোজাফ্ফর হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}