সোমবার (২০ এপ্রিল) নেত্রকোণা জেলার সদর উপজেলার ঠাকুরাকোনা ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য আতিকুল ইসলাম আতিকের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন সংরক্ষিত নারী আসনের ইউপি সদস্য চাম্পা আক্তারের মেয়ে মারুফা আক্তার।

 

বেসরকারি চাকুরীজীবি মারফা আক্তার তার দায়েরকৃত অভিযোগপত্রে লিখেছেন যে, আমার মা চাম্পা আক্তার (৪৬) ঠাকুরাকোনা ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী আসনের(৭,৮,৯ নং ওয়ার্ডের) জনসাধারণের সরাসরি ভোটে নির্বাচতি ইউপি সদস্য। তার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি মহল দীর্ঘদিনযাবত ষড়যন্ত্র করে আসছে। এরই অংশ হিসেবে আমাদের পাশের গ্রাম দূর্গাশ্রমের আবুল কাশেমের ছেলে রাজন মিয়ার(২৮) সাথে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ২০২০ সালে আমার বিয়ে করিয়ে দেয়। পরিস্থিতির চাপে পড়ে আমি বাঙ্গালী নারী হিসেবে সংসার করার সিদ্ধান্ত নিই। কিন্তু ঠাকুরাকোনা ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য দূর্গাশ্রম গ্রামের আতিকুর রহমান আতিক(৪৫), শফিকুল ইসলাম (নিয়াশু) পিতা: ফজল হক, মাসুম মিয়া (২৯) পিতা: মৃত কুদ্দুস, ফরিদ মিয়া(৩২), পিতা: আবুল কাশেম, মাদকব্যবসায়ী রাজিব মিয়া(২৫) পিতাঃ আব্দুল রেজ্জাক, রাশীদ মিয়া (৫৫) পিতা: মফিজউদ্দিনের ষড়যন্ত্রে রাজন আমাকে টাকার জন্য প্রায়শই মারধোর করতো। সে মাদক কেনার জন্যও টাকা চাইতো আমার কাছে, না দিলে মারধোর করতো।

একপর্যায়ে গত ২৫ শে মার্চ জানতে পারি যে সে আমাকে না জানিয়ে বিয়ে করেছে। এবিষয়ে নেত্রকোণা মডেল থানায় অভিযোগ করলে এসআই শাজাহান, এসআই মাজারুল, বিট কর্মকর্তা এএসআই মাহফুজসহ পুলিশের একটি টিম তাকে ধরতে গেলে সদলবলে ২৬ তারিখ দিবাগত রাত ৩ টায় তার লোকজন নিয়ে মসজিদে মাইকিং করে পুলিশ টিমকে রামদা, রড, শাবল, বাঁশ নিয়ে ধাওয়া করে। আমার বাবা আব্দুস সাত্তার ফিরাতে গেলে তার উপর হামলা চালিযে মারপিট করে। তখন আমার মা চাম্পা আক্তার ফেরাতে গেলে তার উপর চড়াও হয় সংঘবদ্ধ এচক্রটি। এসময় তারা আমার মাকে বেধড়ক মারপিট করে। একপর্যায়ে আমার মায়ের বাম পায়ে রড দিয়ে সজোরে কয়েকবার আঘাত করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

পরে পুলিশ আমার মাকে গাড়িতে করে বাড়ি পৌঁছে দেয়। এরপর জরুরী ভিত্তিতে আমার মাকে নিয়ে।নেত্রকোণা সদর হাসপাতালে ভর্তি করি। এখন তিনি শয্যাশায়ী, মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এখন পর্যন্ত এসব ঘটনায় আমরা বিচার পাই নি। তারা প্রতিনিয়ত আমাদের বিভিন্ন হুমকি ধামকি দিচ্ছে। আতিক মেম্বার তার দলবল নিয়ে রবিবার (১৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় আবুল কালাম (চুন্নু)(৫০) নামে নিরীহ এক ব্যক্তির উপরও হামলা চালায় আমাদের পক্ষে কথা বলায়। আমরা বিচার চাই, আমরা আমাদের বাড়িঘরেও থাকতে পারছি না।

 

এবিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য আতিকুল ইসলাম আতিকের কাছে জানতে চাইলে তিনি ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি। তিনি জানান, এবিষয়ে আমি কিছুই জানিনা।

তবে এলাকাবাসী জানান, টিআর কাবিখা কাবিটা প্রকল্পে হরিলুট হয়েছে ঠাকুরাকোনা ইউনিয়নে। আতিক মেম্বার এই হরিলুটে সরাসরি জড়িত, আপনারা একটু অনুসন্ধান করে নিউজ করেন। সামনে ভূয়া প্রকল্প দিয়ে মোটা অংকের টাকা আত্মসাতের পায়তারা করছে সে। তার সাথে ড় সিন্ডিকেট জড়িত, ওদেরকেও ছাই দিয়ে ধরুন। পরিষদটাকে লুটপাট করে খাচ্ছে ওরা, সচিবটা আরো বড়ধরনের বাটপার, আপনাদের কাছে অনুরোধ স্থানীয় সরকারের এমন দশা তুলে ধরেন।

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}