চলতি বোরো মৌসুমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় ব্যাপক পরিসরে ধান চাষ হয়েছে। উপজেলা জুড়ে প্রায় ১৮,১০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে, যার মধ্যে হাওর ও বিল এলাকায় রয়েছে প্রায় ৮,৫৫০ হেক্টর জমি।
এ অঞ্চলে কৃষকরা সাধারণত আগাম ধান হিসেবে জিরাশাইল, ব্রি-২৮, ব্রি-৮৮ ও ব্রি-৯৬ জাতের ধান চাষ করে থাকেন। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রোগবালাইয়ের আক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় কৃষি বিভাগ ব্রি-২৮ চাষে নিরুৎসাহিত করছে। এর পরিবর্তে ব্রি-৮৮ ও ব্রি-৯৬ জাতকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, কারণ এসব জাত তুলনামূলকভাবে রোগ সহনশীল এবং ফলনও ভালো।
প্রতি বছরের মতো এবারও এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি থেকে হাওরাঞ্চলে ধান কর্তন শুরু হয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার নাটঘর ইউনিয়নের কুড়িঘর হাওর এবং ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নের জাফরপুর বিলে ইতোমধ্যে ধান কাটা শুরু হয়েছে।এবার ধান কাটায় যুক্ত হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তি। নবীনগরের বিভিন্ন হাওরে বর্তমানে প্রায় ১৫টি কম্বাইন হারভেস্টার দিয়ে ধান কাটা হচ্ছে। একটি কম্বাইন হারভেস্টার দিনে প্রায় ২৫ বিঘা জমির ধান কর্তন ও মাড়াই করতে পারে, যা করতে সাধারণত ১৫০ জন শ্রমিকের প্রয়োজন হয়। সরকারের ভর্তুকির ফলে এই প্রযুক্তি ব্যবহারে যেমন শ্রমিক সংকট কমছে, তেমনি কৃষকদের সময় ও অর্থ দুটিই সাশ্রয় হচ্ছে।কুড়িঘর গ্রামের কৃষক জান মিয়া বলেন, “গত ৩-৪ বছর ধরে আমরা মেশিন দিয়ে আগাম ধান কাটছি। আগে চার বিঘা জমির ধান কাটতে ৩০ জন শ্রমিক লাগত এবং প্রায় ৪ দিন সময় লাগত। এখন একদিনেই সব কাজ শেষ হয়ে যাচ্ছে।”অন্যদিকে, জাফরপুর বিলের কৃষক কাউছার জানান, “এখন ধান কাটার সময় নিয়ে কোনো দুশ্চিন্তা নেই। মেশিন দিয়ে দ্রুত ধান কেটে ঘরে তোলা যাচ্ছে। এতে সময় ও খরচ—দুটিই কমেছে।” তিনি আরও জানান, এ মৌসুমে তিনি ব্রি-৯৬ ও ব্রি-১০৭ জাতের ধান চাষ করেছেন এবং ফলন বেশ ভালো হয়েছে, রোগবালাইও প্রায় নেই বললেই চলে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ জাহাঙ্গীর আলম লিটন বলেন, “চলতি মৌসুমে নবীনগরে ১৮,১০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৯০,৫০০ মেট্রিক টন। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ইতোমধ্যে ধান কর্তন শুরু হয়েছে এবং শ্রমিকের পাশাপাশি কম্বাইন হারভেস্টারও ব্যবহার করা হচ্ছে।”
সব মিলিয়ে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এ মৌসুমে নবীনগরের কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি ও আশাবাদ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।