ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে তীব্র লোডশেডিংয়ে জনজীবনের পাশাপাশি মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে পোল্ট্রি খামার খাত। অনিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, বাড়ছে খরচ এবং কমছে আয়। ফলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন স্থানীয় খামারিরা।

স্থানীয় খামারিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দিন-রাত মিলিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র ১০-১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। এতে মুরগির বাচ্চা লালন-পালনে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছে। নির্ধারিত তাপমাত্রা বজায় রাখতে না পারায় অনেক বাচ্চা মারা যাচ্ছে।

নবীনগরের তরুণ খামারি মো. আব্দুল্লাহ বলেন, “বর্তমান লোডশেডিং পরিস্থিতি খুবই খারাপ। আমার খামারে দুই দিন আগে আনা বাচ্চাগুলো ঠিকমতো তাপ দিতে পারছি না। এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকলে আবার দুই ঘণ্টা থাকে না। এতে বাচ্চাগুলোর মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, “লোডশেডিংয়ের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, খরচ বাড়ছে কিন্তু আয় কমে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে খামার টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।”উপজেলার আরও কয়েকজন খামারি জানান, বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহের কারণে মুরগি স্টক করা, ব্রুডিং পরিচালনা এবং খামারের উপযুক্ত পরিবেশ বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে অনেকেই বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন।

খামারিরা জানান, দ্রুত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা না হলে এ অঞ্চলের পোল্ট্রি শিল্প টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। তারা নবীনগরকে লোডশেডিংমুক্ত এলাকা ঘোষণা এবং বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নয়নে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে পোল্ট্রি খাতে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে এ বিষয়ে নবীনগর পল্লী বিদ্যুতের ডি.জি.এম মোহাম্মদ ওয়াদুদ হোসেন বলেন, “জাতীয় গ্রিড থেকে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ বরাদ্দ না পাওয়ায় লোডশেডিং বেড়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। আশা করি অচিরেই এর সমাধান হবে।,,খামারিদের টিকে থাকা এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে সচল রাখতে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির দ্রুত উন্নয়ন এখন সময়ের দাবি।

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}