রাজশাহী নগরীর বোয়ালিয়া থানার রেলগেট স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকায় প্রকাশ্যে জুয়ার আসর বসানোর অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, উপশহর ফাঁড়ি পুলিশের নীরবতার সুযোগে প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সেখানে রমরমা জুয়ার বোর্ড পরিচালিত হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে এই জুয়ার আসর পরিচালনা করছে। এ চক্রের মূল হোতা হিসেবে ‘দিপু’ নামের এক ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে, যিনি যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে পরিচিত। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এবং প্রশাসনের দুর্বল তদারকির সুযোগ নিয়ে প্রকাশ্যেই জুয়ার আসর চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন শতাধিক মানুষ এই বোর্ডে অংশ নেয় এবং লাখ লাখ টাকার লেনদেন হয়। এতে করে এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও পারিবারিক কলহ বেড়ে গেছে বলেও দাবি তাদের।
ভুক্তভোগী এক পরিবারের সদস্য বলেন, “আমার ছেলে আগে নিয়মিত পড়াশোনা করতো, এখন প্রতিদিন ওই জুয়ার বোর্ডে যায়। অনেক টাকা হারিয়েছে, সংসারে অশান্তি লেগেই আছে। আমরা কিছু বললেই হুমকি দেয়।”
আরেক ভুক্তভোগী জানান, “জুয়ার কারণে আমার স্বামী প্রায় সর্বস্ব হারিয়েছে। সংসার চালানোই এখন কঠিন হয়ে গেছে। প্রশাসনের কাছে জানিয়েও কোনো ফল পাইনি।”
রাজশাহী নগরীর বোয়ালিয়া থানার রেলগেট স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকায় জুয়ার আসর পরিচালনার অভিযোগে অভিযুক্ত দিপু আংশিকভাবে বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “তেমন কিছু না, আমরা পরিচিত কয়েকজন সেখানে বসে সময় কাটানোর জন্য এমনি কার্ড খেলি। বড়সড় জুয়ার বোর্ড বলা হচ্ছে, সেটা ঠিক না। সকালে আসেন, একসাথে চা খেতে খেতে কথা হবে। নয়তো আপনি কোথায় আছেন, সেখানে আসছি।”
তার এই বক্তব্যে জুয়ার বিষয়টি অস্বীকার না করে ‘সাধারণ আড্ডা’ হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তবে এলাকাবাসীর দাবি, এটি কোনো সাধারণ আড্ডা নয়; বরং নিয়মিত জুয়ার আসর বসছে সেখানে, যেখানে প্রতিদিন উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থের লেনদেন হয় এবং এর প্রভাবে বহু পরিবার আর্থিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে উপশহর ফাঁড়ির ইনচার্জ শাহ আলম বলেন, “আমরা কয়েকবার সেখানে গেছি, কিন্তু জুয়ার কোনো বোর্ড পাইনি। তারপরও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং সেখানে নজরদারি বাড়ানো হবে।”
এলাকাবাসী দ্রুত এই অবৈধ জুয়ার আসর বন্ধ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।