রাজনগর (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধিঃ মৌলভীবাজারের রাজনগরে যথাযোগ্য মর্যাদায় আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস (মে দিবস) ও পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেফটি দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে ১ মে শুক্রবার উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে একটি র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল সিকদার। এতে বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল আমিন, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় কর্মকর্তা গোলাম রব্বানী খান এবং উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি হোসেন আহমেদ রাজা। সভায় বিভিন্ন শ্রমজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে, মে দিবস উপলক্ষে চা শ্রমিকদের একটি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। লংলা ভ্যালির উদ্যোগে এবং স্থানীয় চা শ্রমিকদের সহযোগিতায় করিমপুর চা-বাগানে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন লংলা ভ্যালির সভাপতি শহিদুল ইসলাম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজার-৩ (সদর ও রাজনগর) আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমানের সহধর্মিণী ও জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি রেজিনা নাসের।
ইউপি সদস্য বেলাল আহমেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল ইসলাম সেলুন, সাধারণ সম্পাদক আব্বাস আলী, মুন্সিবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাহেল হোসেন, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শেখ মো. আসিক মিয়া এবং সাধারণ সম্পাদক মোশাহিদ আহমেদ মজাই।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে রেজিনা নাসের বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করায় তিনি শ্রমিকদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি শ্রমিকদের উত্থাপিত দাবিগুলো সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য এম নাসের রহমানের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেন এবং সেগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার জন্য অনুরোধ করবেন বলে জানান।
এ সময় তিনি আরও বলেন, শ্রমিকদের সমস্যা সমাধানে তিনি নিয়মিত খোঁজখবর রাখবেন এবং দাবি বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।
সমাবেশে লংলা ভ্যালির সহ-সভাপতি তলি রাণী নাইডু, সাধারণ সম্পাদক সনজু প্রসামীসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তারা চা শ্রমিকদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবি তুলে ধরেন।
শ্রমিকদের দাবির মধ্যে রয়েছে করিমপুর, উদনা ও পার্শ্ববর্তী বাগানসমূহের জন্য একটি সমন্বিত কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন, একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং বাগানের অভ্যন্তরীণ সড়কগুলো চলাচলের উপযোগী করে উন্নয়ন করা।
বক্তারা জানান, ২০১৮ সালের পর থেকে চা শ্রমিকদের কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। এতে তাদের প্রতিনিধিত্ব কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তাই দ্রুত সময়ের মধ্যে সারাদেশে চা শ্রমিকদের নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানান তারা।
এছাড়া শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিতকরণ, জীবনমানের উন্নয়ন এবং মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।