চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী বলেছেন,’যারা স্কুল কমিটিতে আসতে চাচ্ছে তা কেবল ভিজিটিং কার্ডে মধ্যে পদের তালিকা বাড়ানোর জন্য। স্কুলের সভাপতি হবে কেবল কার্ড ছাপানোর জন্য। আপনি ছাপাতে চান, কোন আপত্তি নেই। তবে কাজ করতে হবে।
আপনি স্কুলের সভাপতি হবেন, তারপরে প্রতিমাসে এসে আমাকে বলবেন যে, আমার ক্লাসরুমে টেবিল গুলো ভাঙা, ছাদ থেকে পানি পড়ে, ফ্যান চলছে না, তার হবেনা। আপনি পোস্ট নিয়েছেন নাহ্? আপনি ঠিক করেন, আমি পরে বিল দেবো। আমার কাজের লোক লাগবে। আমার বসে বসে মিষ্টি খাওয়ার লোক লাগবেনা।’
সোমবার (৪ মে) বিকালে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে উপজেলা প্রশাসন ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের আয়োজনে শিক্ষার মানোন্নয়নে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানগণের সাথে মতবিনিময় বিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হাসানের সভাপতিত্বে ও মাস্টার ওমর ফারুকের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথি হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, ‘যারা ঘন ঘন এসে স্কুলের কি অবস্থা দেখে যাচ্ছেন, স্কুলে সাহায্য করেছেন। তাদের একটা তালিকা দেন। ওখান থেকে আমি সভাপতি করতে চাই। যেব্যাক্তি মন থেকে স্কুলে সাহায্য করতে চায়, আমি তাদেরকে পোস্টে আনতে চাই। যারা ইলেকশনের সময় পিছন পিছন হেঁটেছে, তাঁদের কাজ স্কুলে নাহ্, তাঁদের কাজ পলো গ্রাউন্ডে। উনারা পলিটিক্স করবে। স্কুলের সাথে পলিটিক্স আমি ইনভলভ করবো না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের আরেকটা সমস্যা আছে, বড় ভাই সিনড্রোম। বড় ভাইয়েরা স্কুলে এসে ছাত্রদের নিয়ে গিয়ে বলে যে, ‘তোরা আমার সাথে হাট। পরবর্তীতে নিয়ে গিয়ে নেশা করা শুরু করে, এটা একটা বিশাল প্রবলেম। এমনিতেই আমরা সবাই জানি, রাঙ্গুনিয়ার মধ্যে একটা মাদকের সমস্যা আছে। বেশ বড়ভাবেই আছে।’
বড় মাঠ আছে, সংস্কার প্রয়োজন শিক্ষকের এমন প্রশ্নের প্রতিত্তোরে হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, ‘আপনার স্কুলে সব’চে বড় মাঠ আছে, এটা আমাকে বলেছেন আর কাউকে বলবেন না। কারণ, পরবর্তীতে দেখবেন, ঔখানে পলিটিকাল প্রোগ্রাম করার জন্য সবাই দখল করা শুরু করেছে। রাঙ্গুনিয়ার মধ্যে যত মাঠ আছে, মাঠে খেলা ছাড়া সব কিছু হয়।’
স্কুল কমিটির রেশ টেনে পুনরায় হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, ‘রাঙ্গুনিয়ার মধ্যে চেনা পরিচিত অনেক আর্মি অফিসার আছে, যারা এই স্কুল কমিটিগুলোর মধ্যে আসার সুযোগ চাচ্ছে। কিন্তু উনারাও এখন আসতে ভয় পাচ্ছে, যে আমি এখন নামটা আনালাম, নামটা কাটা যাবে? মানও যাবে, সম্মানও যাবে। দেখলাম কোন চার মামলার আসামি তাঁকে সভাপতি দিয়ে বসে আছে। আমি এটা চাইনা। কারণ আমার সন্তান যে স্কুলে যাচ্ছে, আমারও কিন্তু মনে একটা চিন্তা থাকবে যে, এই স্কুলের ইনচার্জ কে? স্কুলে যদি ইনচার্জ একজন ভাল মানুষ হয়, তাহলে মনের মধ্যেও একটা শান্তি চলে আসে, আমি ছেলেকে একটা ভাল স্কুলে পাঠালাম।’
স্কুলে ‘আইসিটি ডিপার্টমেন্ট’নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘রাঙ্গুনিয়ার মেজরিটি স্কুলে কিন্তু আইসিটি ডিপার্টমেন্ট নাই, ল্যাব নাই। যেভাবেই হোক প্রতিটি স্কুলের জন্য আমি ল্যাব নিয়ে আসতে পারবো। আপনাদের এই বেসিক জিনিষগুলো আগে চেয়ে নিতে হবে। আমি ডিসেম্বরের মধ্যে আইসিটি ল্যাব নিয়ে আসতে পারি অন্তত মনের মধ্যে শান্তি পাবো, ভাল কিছু একটা শুরু করেছি।’
তিনি বলেন, ‘আমার এখন চোখ কান খোলা রাখতে হবে ঐ বাচ্চাগুলো জন্য, যারা এখন স্কুলে পড়ে। আর বিভিন্ন স্কুলের অনুদান থেকে একটু একটু নিয়ে অন্য স্কুলে দিয়ে দিচ্ছেন, এটাও এক ধরনের দূর্নীতি। আর কিছু হোক আর না হোক স্কুলের মধ্যে দূর্নীতি আমি সহ্য করবো না। আশাকরি আপনারা সকলেই আমাকে সহযোগিতা করবেন।’
এর আগে তিনি সম্প্রতি রাঙ্গুনিয়ায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে চেক বিতরণ ও
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সমাপিত টেকাব প্রকল্পের প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে সনদপত্র এবং ঋণের চেক বিতরণ করেন।
ক্যপশন: ১। রাঙ্গুনিয়া উপজেলার মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানগণের সাথে মতবিনিময় বিনিময় করলেন হুমাম কাদের চৌধুরী এমপি।
২।রাঙ্গুনিয়ায় অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে চেক বিতরণ করেন হুমাম কাদের চৌধুরী এমপি।