শিক্ষার্থীবান্ধব নীতিমালা প্রণয়ন ও বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে স্মারকলিপি দিয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রদল। এতে সাম্প্রতিক সময়ে প্রশাসনিক বিভিন্ন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে শিক্ষার্থীদের স্বার্থে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

 

সোমবার (১১ মে) বেলা দুইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বরাবর এ স্মারকলিপি দেন শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এসময় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ, সদস্য সচিব মাসুদ রুমি মিথুন, সদস্য রাফিজ, নূর উদ্দিন, সাব্বির সহ অন্যান্য নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

 

স্মারকলিপিতে ছাত্রদল তিনটি প্রধান দাবি উত্থাপন করে। প্রথমত, সকল ধর্মের শিক্ষার্থীদের জন্য ইসলামিক স্টাডিজ ও বাংলাদেশ স্টাডিজ কোর্স বাধ্যতামূলক করার সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানানো হয়। সংগঠনটির নেতারা বলেন, পূর্বের ন্যায় কোর্স দুটি নন-ক্রেডিট কোর্স হিসেবে বহাল রাখা হলে সকল ধর্মের শিক্ষার্থীর স্বাচ্ছন্দ্য ও ন্যায্যতা নিশ্চিত হবে। দ্বিতীয়ত, আল-ফিকহ অ্যান্ড ল’ বিভাগে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের জন্য ৫০ শতাংশ কোটা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানানো হয়। তাদের ভাষ্য, ভর্তি প্রক্রিয়ায় সকল শিক্ষার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে এবং মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে একটি বৈষম্যহীন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। তৃতীয়ত, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম দ্রুত সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজড করার দাবি জানানো হয়। স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, এনালগ পদ্ধতির কারণে ভর্তি কার্যক্রম, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তর থেকে মূল ও সাময়িক সনদ, ট্রান্সক্রিপ্ট এবং সেমিস্টার বা বার্ষিক নম্বরপত্র উত্তোলনে দীর্ঘসূত্রিতা ও ভোগান্তির সৃষ্টি হচ্ছে। পাশাপাশি অন্যান্য প্রশাসনিক সেবা গ্রহণেও শিক্ষার্থীরা নানা জটিলতার সম্মুখীন হচ্ছে।

 

স্মারকলিপি গ্রহণ শেষে উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন থেকে আর কোনো নন-ক্রেডিট কোর্স থাকবে না। তাই এই দুটি কোর্স ক্রেডিট কোর্স হিসেবেই থাকছে। যেহেতু এটা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় সেহেতু কিছু ইসলামিক জ্ঞান সবার অর্জন করার জন্য এই সিদ্ধান্ত। তবে এই কোর্সে নামাজ, রোজা হজ্জ, যাকাত এগুলো শেখানো হবে না। বরং তাঁদেরকে ইসলামের মধ্যকার কিছু নৈতিকতার ব্যাপারে জ্ঞান প্রদান করা হবে।

 

প্রশাসনিক কার্যক্রম ডিজিটালাইজড করার ব্যাপারে তিনি বলেন, আমরা পদক্ষেপ গ্রহণ করছি। আল-ফিকহ্ বিভাগে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের জন্য ৫০% কোটার সিদ্ধান্ত বাতিল করতে হলে ইউজিসির সাথে আলোচনা করতে হবে। আমরা এ ব্যাপারে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিব।

 

পোষ্য কোটা বাতিলের দাবির ব্যাপারে তিনি বলেন, দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে পোষ্য কোটা থাকায় আমরা এটা বাতিল করতে পারছি না। তবে এটা নিয়ে আমরা আলোচনা করব।

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}