ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় নিখোঁজের একদিন পর একটি ভুট্টা ক্ষেত থেকে লামিয়া আক্তার নামে চার বছরের এক কন্যা শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মুরসালিন (১৫) নামে নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এদিকে ঘটনার জানাজানি হলে উত্তেজিত গ্রামবাসী অভিযুক্তের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নিহত শিশু লামিয়া আক্তার উপজেলার ধর্মগড় ইউনিয়নের ভরনিয়া আনসার ডাঙ্গী গ্রামের শফিকুল ইসলামের মেয়ে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৩ মে বুধবার বিকাল থেকে শিশুটি নিখোঁজ ছিল। পরিবারের সদস্যরা অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি।
গ্রামবাসীরা জানান, একই গ্রামের শরিফ উদ্দিনের ছেলে মুরসালিন প্রায়ই শিশুটিকে কোলে নিয়ে খেলাধুলা করত। বুধবার বিকালেও তাকে শিশুটিসহ এলাকায় ঘুরতে দেখা যায়। কিন্তু সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলেও শিশুটি বাড়িতে না ফেরায় সন্দেহ দানা বাঁধে।
বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয়রা মুরসালিনকে সন্দেহজনকভাবে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। এক পর্যায়ে সে শিশুটিকে হত্যা করে ভুট্টা ক্ষেতে ফেলে রাখার কথা স্বীকার করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ওই গ্রামের একটি ভুট্টা ক্ষেত থেকে লামিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে।

রাণীশংকৈল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমানুল্লাহ আল বারী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান: প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক মুরসালিন স্বীকার করেছে যে, সে শিশুটিকে ধর্ষণের পর নিজেকে রক্ষা করতে আতঙ্কিত হয়ে তাকে হত্যা করে ফেলে রেখেছিল। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।” হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে গ্রামবাসী চরম উত্তেজিত হয়ে ওঠে এবং অভিযুক্ত মুরসালিনের পরিবারের বাড়িঘর ভাঙচুর করে।

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}