যশোরের মনিরামপুর উপজেলায় চলতি বোরো মৌসুমে সরকারি ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার উপজেলা খাদ্য গুদাম প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন মনিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সম্রাট হোসেন।

উপজেলা খাদ্য বিভাগের আয়োজনে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি অফিসার মাহমুদা আক্তার বীথি, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা আশরাফুজ্জামান, খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পলাশ আহমেদ, স্থানীয় চালকল মালিক, চাতাল ব্যবসায়ী, কৃষক ও গণমাধ্যমকর্মীরা।
খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে কৃষকদের কাছ থেকে স্বচ্ছ ও ডিজিটাল পদ্ধতিতে ধান সংগ্রহের লক্ষ্যে কৃষি অ্যাপের মাধ্যমে আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে। পরবর্তীতে লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান সংগ্রহ করা হবে।
সরকার চলতি মৌসুমে মনিরামপুর উপজেলা থেকে প্রতি কেজি ধান ৩৬ টাকা দরে ২ হাজার ২৯৩ মেট্রিক টন, প্রতি কেজি চাল ৪৯ টাকা দরে ২ হাজার ৫০১ মেট্রিক টন এবং প্রতি কেজি গম ৩৬ টাকা দরে ৪৫ মেট্রিক টন সংগ্রহ করবে। গত ৩ মে থেকে শুরু হওয়া এ সংগ্রহ অভিযান আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত চলবে।
অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সম্রাট হোসেন বলেন, “সরকার কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে আন্তরিকভাবে কাজ করছে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে ধান সংগ্রহের ফলে অনিয়ম কমবে এবং প্রকৃত কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন।”
উপজেলা কৃষি অফিসার মাহমুদা আক্তার বীথি বলেন, “মনিরামপুরে এবার বোরো ধানের ভালো ফলন হয়েছে। কৃষকরা যাতে সহজে সরকারি সংগ্রহ কার্যক্রমে অংশ নিতে পারেন, সে লক্ষ্যে কৃষি বিভাগ মাঠপর্যায়ে সার্বিক সহযোগিতা করছে।”
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা আশরাফুজ্জামান বলেন, “কৃষকদের হয়রানি ছাড়াই দ্রুত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ধান-চাল সংগ্রহ সম্পন্ন করা হবে। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী শতভাগ স্বচ্ছতা বজায় রাখা হচ্ছে।”
খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পলাশ আহমেদ জানান, “সংগ্রহ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য গুদামে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। কৃষকরা যেন নির্বিঘ্নে ধান সরবরাহ করতে পারেন, সে বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।”

স্থানীয় চালকল মালিক ও চাতাল ব্যবসায়ী আরিফুল ইসলাম বলেন বলেন, “সরকারি সংগ্রহ কার্যক্রমে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হলে কৃষক যেমন লাভবান হবেন, তেমনি বাজার ব্যবস্থাও স্থিতিশীল থাকবে।”
এদিকে উপজেলার কৃষক খলিলুর রহমান বলেন, অ্যাপের মাধ্যমে আবেদন ও লটারির ব্যবস্থা হওয়ায় আগের চেয়ে স্বচ্ছতা বেড়েছে। আমরা চাই সরকার ভবিষ্যতেও কৃষকদের পাশে থাকুক।

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}