ওমানে গাড়ির এসি বিস্ফোরণে নিহত হওয়া চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার একই পরিবারের চার ভাইয়ের পরিবারের খোঁজখবর নিতে তাঁদের বাসভবনে ছুটে যান চট্টগ্রাম-৭ রাঙ্গুনিয়া আসনের সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী। এসময় তিনি আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে তাঁদের লাশ দেশে ফিরে আনার আশ্বাসও দেন।
শুক্রবার (১৫ মে) দুপুরে উপজেলার লালানগর ইউনিয়ন বন্দারাপাড়ার গ্রামে নিহতের নিজ বাড়িতে গিয়ে নিহতদের ভাই এনাম উদ্দিনের সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং পরিবারে সদস্যের খোঁজ খবর নেন তিনি। তবে বাড়ির ভেতরে থাকা এনামের অসুস্থ মা খাদিজা বেগম চার ছেলের মৃত্যুর খবর এখনো জানেন না। তিনি চার সন্তানের মৃত্যুর খবর শুনলে বড় ধরনের ধাক্কা সামলাতে পারবেন না বলেই তার কাছে বিষয়টি গোপন রেখেছে পরিবার। এবং জানাজানি হবে এমন ধারণা করে বাসায় ভেতরে ঢুকেন নি হুমাম কাদের চৌধুরী।
হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, আপনারা সকলেই জানেন যে, গত দুইদিন আগে একটা দুঃসংবাদ এসেছিল, লালানগরের বাসিন্দা ৪ ভাই ওমানে প্রবাসে থাকেন। তারা গাড়ী এসি বিস্ফোরণে ইন্তেকাল করেছেন। আজ তাদের পরিবারের সাথে দেখা করতে এসেছিলাম। যারা ইন্তেকাল করেছেন তাদের জন্য দোয়া করবেন।
তিনি আরও বলেন, আশা করছি যে, আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে তাঁদের মরদেহ দেশে ফিরে আনার জন্য ওমানে আমাদের যে এম্বাসাডর আছেন, উনি সহযোগীতা করছেন। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে যা সহযোগিতা দরকার, দেওয়া হচ্ছে। মূলত তাদের পরিবারের খোঁজ খবর নিতে এবং দেখা করতে এসেছিলাম।
তিনি বলেন, একটি পরিবার প্রায় ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে চলে আসলো। যতটুকু খবর পেয়েছি, এক ভাই জীবিত আছে, তার ওপর দিয়ে কি যাচ্ছে যারা ভাই, বাবা, মা হারিয়েছেন তারা বুঝতে পারবেন। এখন এই ব্যাক্তির পাশে থাকার দায়িত্ব আপনাদের সকলের।
এর আগে জুমার নামাজপূর্ব মসজিদের মিম্বরে দাড়িয়ে সমবেত মুসল্লীদের উদ্দেশ্য হুমম কাদের চৌধুরী বলেন, আমরা সকলেই ভুলে যায় যে, মরণ যেকোনো সময় আসতে পারে। আমরা দুনিয়া নিয়েই এত ব্যস্ত থাকি যে, আমরা পরে যে এক জায়গায় যেতে হবে। দ্বীন নিয়ে আমরা কেউ চিন্তা করিনা। আমরা সবাই দুনিয়া নিয়েই আছি। আশাকরি এই ঘটনার পরে আপনার মনের মধ্যে ঐ ভয়টা চলে আসবে যে, এই দুনিয়ার মধ্যে আমরা যা করছি, সবকিছুর হিসাব আল্লাহ রাখেন। তাই অনুরোধ করবো, পরিবারের পাশে থাকবেন, দ্বীনের ব্যাপারে চিন্তা করবেন।
এসময় রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হাসানসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং নিহত চার সহোদরের ভাই এনাম উদ্দিন ও তাঁদের স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ, গত বুধবার (১৩ মে) রাতে ওমানের মুলাদ্দাহ এলাকায় গাড়ির এসির বিষাক্ত গ্যাসে রাশেদুল ইসলাম, সাহেদুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম নামে একই পরিবারের চার প্রবাসী ভাইয়ের মৃত্যু হয়। তাঁরা রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বন্দারাজার পাড়া গ্রামের মৃত জামাল উদ্দিনের ছেলে।
ক্যাপশন: ওমানে নিহত চার সহোদরের ভাই এনাম উদ্দিনের সাথে সাক্ষাৎ ও পরিবারে খোঁজ খবর নেন সাংসদ হুমাম কাদের চৌধুরী।