ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কনিকাড়া উচ্চ বিদ্যালয় শুধু শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এই বিদ্যাপীঠ গড়ে তুলেছে অসংখ্য মানবিক, দায়িত্বশীল ও সমাজসচেতন মানুষ। সেই ধারাবাহিকতায় ১৯৯৯ সালের এসএসসি ব্যাচ আজ হয়ে উঠেছে মানবতা, বন্ধুত্ব ও সামাজিক দায়বদ্ধতার এক অনন্য উদাহরণ।
সময় বদলেছে, বদলেছে জীবনের বাস্তবতা। একসময় যারা একই বেঞ্চে বসে পাঠ নিয়েছেন, মাঠে খেলেছেন, হাসি-আনন্দে কেটেছে যাদের কৈশোর—আজ তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে নানা গুরুত্বপূর্ণ ও সম্মানজনক পেশায় নিয়োজিত। কেউ শিক্ষক, কেউ ব্যবসায়ী, কেউ চাকরিজীবী, আবার কেউ প্রবাসে থেকেও নিজ গ্রামের মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন নীরবে। কর্মব্যস্ত জীবনের শত ব্যস্ততার মাঝেও তারা ভুলে যাননি নিজেদের শিকড়, ভুলে যাননি গ্রামের মানুষ ও মানবিক দায়িত্ববোধের কথা।
কনিকাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৯৯৯ ব্যাচ বর্তমানে গ্রামের অসহায়, দরিদ্র ও হতদরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে এক মানবিক সংগঠনের রূপ নিয়েছে। প্রতি বছর দুই ঈদে তারা দরিদ্র পরিবারের মাঝে ঈদের উপহার সামগ্রী বিতরণ করে থাকেন। ঈদের আনন্দ যেন সমাজের সকল মানুষের ঘরে পৌঁছে যায়—এই চিন্তা থেকেই তাদের এই মহৎ উদ্যোগ। শুধু তাই নয়, ঈদগাহে মুসল্লিদের জন্য বোতলজাত পানির ব্যবস্থাও করে থাকেন তারা, যা অত্যন্ত প্রশংসনীয় ও মানবিক একটি কাজ।
এই ব্যাচের সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক ভালোবাসা, ঐক্য ও বন্ধুত্ব আজ সমাজের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা বিশ্বাস করেন—মানুষ মানুষের জন্য, আর সেই বিশ্বাস থেকেই তারা সবসময় চেষ্টা করেন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে।
সম্প্রতি কনিকাড়া জোড়হাটির দুই অসুস্থ ব্যক্তি—আসলাম ও মানিক মিয়ার অসুস্থতার খবর জানতে পেরে ১৯৯৯ ব্যাচের সদস্যরা দ্রুত তাদের বাড়িতে ছুটে যান। তারা শুধু খোঁজখবর নিয়েই থেমে থাকেননি; মানবিক সহায়তা হিসেবে কিছু নগদ অর্থও তাদের হাতে তুলে দেন। এই সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধ সত্যিই সমাজের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। কারণ বর্তমান সময়ে যখন মানুষ ক্রমেই আত্মকেন্দ্রিক হয়ে পড়ছে, তখন এমন উদ্যোগ সমাজে মানবিকতার আলো ছড়িয়ে দেয়।
মানবিক মূল্যবোধ, পারস্পরিক সহযোগিতা ও ঐক্যের এই সুন্দর বন্ধন সমাজকে ইতিবাচকভাবে বদলে দিতে পারে। এমন উদ্যোগ মানুষের মাঝে সহনশীলতা, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধি করে। বিশেষ করে বন্ধুদের এই ঐক্য নতুন প্রজন্মের কাছেও একটি ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেয়—বন্ধুত্ব শুধু আনন্দ ভাগাভাগির জন্য নয়, বরং সমাজ ও মানুষের কল্যাণে একসাথে কাজ করারও একটি শক্তিশালী মাধ্যম।
গ্রামের সাধারণ মানুষও ১৯৯৯ ব্যাচের এই মহৎ কর্মকাণ্ডকে অত্যন্ত শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার চোখে দেখছেন। তাদের প্রত্যাশা, এই মানবিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং সমাজের অন্যরাও এমন উদ্যোগে অনুপ্রাণিত হবে।দীর্ঘজীবী হোক কনিকাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৯৯৯ ব্যাচের মানবিক কর্মসূচি। তাদের সুন্দর ও মহৎ উদ্যোগের সুফল ভোগ করুক গ্রামের সাধারণ মানুষ। মানবতা, ভালোবাসা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার এই বন্ধন আরও শক্তিশালী হোক—এটাই সকলের প্রত্যাশা।ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও আন্তরিক শুভকামনা রইল কনিকাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৯৯৯ ব্যাচের সকল সদস্যদের প্রতি।