‘ফ্যাশন ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি’ (FIT) তাদের গ্র্যাজুয়েট স্কুলের ‘গ্লোবাল ফ্যাশন ম্যানেজমেন্ট’ প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে ‘বব ফিশ এন্টারপ্রেনারিয়াল অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ ঘোষণা করেছে। অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারটির নামকরণ করা হয়েছে লেখক ও উদ্যোক্তা বব ফিশ-এর নামানুসারে। মোট ১২টি দলের দুই বছরের নিরলস পরিশ্রমের পর, FIT-এর ‘বব ফিশ প্রেজেন্টেশন হলে এই সম্মানজনক পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।

বব ফিশ এন্টারপ্রেনিউরিয়াল অ্যাওয়ার্ডস গ্লোবাল ফ্যাশন ম্যানেজমেন্ট মাস্টার অফ প্রফেশনাল স্টাডিজ এবং ফ্যাশন ডিজাইন এমএফএ প্রোগ্রামের প্রাপকদের জন্য প্রদত্ত ২৫,০০০ ডলারের এই পুরস্কারটি পঞ্চমবারের মতো প্রদান করা হলো। দুজন বাংলাদেশি এবং একজন ভারতীয় শিক্ষার্থীর নেতৃত্বে গঠিত ‘Taatistudio’ (তাঁতিস্টুডিও) দলটি এবারের এই পুরস্কারটি অর্জন করেছে। মো. আশিকুর রহমান (আসিফ) মো. ইয়াসিন মিয়া, এবং সোমদত্ত দাস এই তিনজন মিলে তাদের উদ্ভাবনী ধারণাটিকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন। এই দলটির নেতৃত্ব দিয়েছেন আসিফ এখানে আসার আগে তিনি ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ ও এমবিএ সম্পন্ন করেছিলেন এবং তিনি নটর ডেম কলেজের একজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী এছাড়াও আসিফ বাংলাদেশে থাকা কালীন আকিজ, স্কয়ার এবং থারমেক্স গ্রুপে কর্মরত ছিলেন। তারা জানিয়েছেন এই পুরস্কারটি বাংলাদেশের কারুশিল্পীদের প্রতি উৎসর্গীকৃত পাশাপাশি তারা বাংলাদেশের এই পণ্যগুলোকে ‘বিলাসবহুল পণ্য’ (Luxury Products) হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তুলে ধরার ব্যাপারে ব্যাপক ভাবে আশাবাদী। উল্লেখ্য এই মাস্টার্স প্রোগ্রামে যুক্তরাষ্ট্র , কানাডা , চীন , আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, ভিয়েতনাম এবং তাইওয়ান সহ বিভিন্ন দেশের ছাত্রছাত্রীদের দিয়ে তৈরি ১২ টি টিমের মধ্যে কয়েক ধাপের প্রেজেন্টেশান শেষে বিচারকদের ভোটে ৬ টি টিম বব ফিসের কাছে তাদের প্রেজেন্টেশান তুলে ধরার সুযোগ পান আর তাতে তাঁতিস্টুডিও টিম নির্বাচিত হয় এই সম্মানজনক পুরুস্কারের জন্য। আসিফ জানান, মুঘল আমল থেকে বাংলার কাপড় এবং বুনন শিল্পের যে ঐতিহ্য ছিল মূলত তারা গল্পের মাধ্যমে তা তুলে ধরেন, দেশের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনা আর তাঁত শিল্পীদের জন্য একটি বাজার তৈরি করে তাদের পেশাকে টিকিয়ে রাখতে চান আর এসবকিছুই তাদের একটি আর্থিক পরিকল্পনায় তুলে ধরতে হয় যা পরবর্তীতে প্রাক্তন হার্ভার্ড এবং স্ট্যানফোর্ড থেকে অধায়ন করা বিচারকদের কাছে প্রেজেন্টেশান করতে হয় ।

২ বছর ব্যাপী মাস্টার্স কোর্সে তারা ফ্রান্স , হংকং, চীন এবং মেক্সিকো তে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সেমিনারে অংশগ্রহণ করেন আর সেসব দেশে হাতে তৈরি প্রোডাক্টের চাহিদা দেখতে পান এবং বাংলাদেশের একটি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড করার চিন্তা নিয়ে তারা এই প্রোজেক্টটি তৈরি করেন আসিফ জানান , তারা ইতিমধ্যে কিছু অগ্রিম অর্ডার পেয়েছেন এবং অসাধারণ সাড়া পাচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের এই অর্জন পুরো বাংলাদেশকে সম্মানিত করেছে।

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}