নেত্রকোণার বারহাট্টা উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে ভেটেরিনারি সার্জন, কম্পাউন্ডার ও ড্রেসার পদ শূন্য থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় গবাদিপশু পালক ও খামারিরা। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সেবা না পেয়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা খামারিদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে চিকিৎসা নিতে আসা অনেকেই সঠিক সময়ে পশুর চিকিৎসা পাচ্ছেন না। জরুরি অবস্থায় রোগাক্রান্ত গরু-ছাগল নিয়ে হাসপাতালে এলেও প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ফলে অনেক খামারিকে বাধ্য হয়ে বেসরকারি চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হচ্ছে, এতে বাড়ছে চিকিৎসা ব্যয়। স্থানীয় খামারিদের অভিযোগ, সরকারি হাসপাতাল থাকলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও সহকারী কর্মচারী না থাকায় কাঙ্ক্ষিত সেবা মিলছে না। বিশেষ করে ভেটেরিনারি সার্জনের অনুপস্থিতিতে জটিল রোগের চিকিৎসা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

এছাড়া কম্পাউন্ডার ও ড্রেসার না থাকায় নিয়মিত ইনজেকশন, ড্রেসিং ও প্রাথমিক চিকিৎসা কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। উপজেলার একাধিক খামারি জানান, বর্তমানে পশুখাদ্যের দাম বৃদ্ধি ও রোগব্যাধির কারণে তারা এমনিতেই সংকটে রয়েছেন। তার ওপর সরকারি হাসপাতালে সেবা না পাওয়ায় তাদের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়ছে। সচেতন মহল বলছে, কৃষিনির্ভর এ অঞ্চলে প্রাণিসম্পদ খাত গ্রামীণ অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাই দ্রুত শূন্য পদগুলোতে জনবল নিয়োগ দিয়ে চিকিৎসা সেবা স্বাভাবিক করা জরুরি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয় গবাদিপশু পালনকারী ও খামারিরা। এব্যাপারে বারহাট্টা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ মমিনুর রহমান জানান, দীর্ঘদিন ধরে ভেটেরিনারি সার্জন, কম্পাউন্ডার ও ড্রেসার পদ শূন্য থাকায় স্থানীয়রা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এবিষয়টি আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি, কিন্তু সমস্যাগুলোর কোন সুরাহা হচ্ছে না। একমাত্র ডাক্তার হিসেবে আমাকে সেবা দিতে হয়, প্রশাসনিক কোন কাজে আমি ব্যস্ত থাকলে খামারিদের অনেক সময়ই অপেক্ষা করতে হয়।

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}