বোয়ালমারীর লঙ্কারচর ঘাটে প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে , প্রশাসনের ভূমিকা ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী উপজেলার ঘোষপুর ইউনিয়ন এর ৯ নং ওয়ার্ডের লঙ্কারচর ঘাটে সরকারি নিয়ম উপেক্ষা করে ইজারা আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝিয়ে দেওয়ার আগেই বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তি ও কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সহ-সভাপতি খন্দকার নাসিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে। স্থানীয় সূত্র ও এলাকাবাসীর অভিযোগে জানা যায়, মধুমতী নদীর সংশ্লিষ্ট বালুমহালের টেন্ডার মোঃ রবিউল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির নামে বরাদ্দ হলেও এখনো প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইজারা বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। কিন্তু সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই নদীতে ড্রেজার বসিয়ে এবং শতাধিক ডাম্প ট্রাক ব্যবহার করে প্রকাশ্যে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নদীর ভেতরে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে অস্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করে ভারী যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, এভাবে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ ও নদী তীরবর্তী এলাকার ওপর দীর্ঘমেয়াদি বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এদিকে মাঝিপাড়া মোড় থেকে লঙ্কারচর ঘাট পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার সড়ক এখন বেহাল অবস্থায় পরিণত হয়েছে। এলাকাবাসীর ভাষ্য, দিনরাত ভারী ডাম্প ট্রাক চলাচলের কারণে রাস্তায় অসংখ্য বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “রাস্তার অবস্থা দেখে মনে হয় যেন হাল চাষ করা হয়েছে।” স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ২৪ ঘণ্টা ট্রাক চলাচলের বিকট শব্দে শিশুদের লেখাপড়া ব্যাহত হচ্ছে, রাতের ঘুম নষ্ট হচ্ছে এবং ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের নামাজ আদায়েও বিঘ্ন ঘটছে।

এছাড়া অতিরিক্ত ধুলাবালির কারণে নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, কাশি ও বিভিন্ন শ্বাসতন্ত্রজনিত রোগ বাড়ছে। অভিযোগ রয়েছে, খন্দকার নাসিরুল ইসলামের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাবের কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন এলাকাবাসী জানান, প্রতিবাদ করলেই হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের আশঙ্কা থাকে। বিষয়টি নিয়ে মিন্টু বিশ্বাস এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “এখনো ইজারা বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি, তবে অনুমতি না দিলেও সে বালু কাটতে পারবে।” অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের এমন বক্তব্য ঘিরে এলাকাজুড়ে তীব্র আলোচনা ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। কারণ বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ অনুযায়ী প্রশাসনিক অনুমোদন ও আনুষ্ঠানিকভাবে বালুমহাল বুঝিয়ে দেওয়ার আগে বালু উত্তোলন আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ বলে সংশ্লিষ্টরা মত দিয়েছেন।

আইন সংশ্লিষ্টদের মতে, নির্ধারিত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার আগেই বালু উত্তোলন করলে তা অবৈধ বালু উত্তোলনের আওতায় পড়ে। এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা, অর্থদণ্ড, ড্রেজার ও যানবাহন জব্দ এমনকি কারাদণ্ডের বিধানও রয়েছে। এ বিষয়ে সাংবাদিকরা বিস্তারিত জানতে চাইলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মিন্টু বিশ্বাস এক প্রশ্নের জবাবে অসহযোগিতামূলক আচরণ করতে দেখা যায় বলে অভিযোগ ওঠে। এক পর্যায়ে তিনি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়াও ব্যক্ত করেন বলে জানান উপস্থিত সাংবাদিকরা। এ অবস্থায় এলাকাবাসী অবিলম্বে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার, পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি বালুমহাল সংশ্লিষ্ট অনিয়মে যদি কোনো প্রশাসনিক কর্মকর্তার সম্পৃক্ততা বা প্রশ্রয়ের অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে তাদের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে।

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}