ফরিদপুরের চরভদ্রাসন পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় (কেন্দ্র কোড: ৫২১) এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে ভুল প্রশ্নপত্রে উচ্চতর গণিত (সৃজনশীল) পরীক্ষা নেওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদন অনুযায়ী ‘নায়াগ্রা’ (৩ সেট) প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার কথা থাকলেও, চরভদ্রাসন পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের ৩৪ জন শিক্ষার্থীদেরকে উচ্চতর গণিত পরীক্ষায় ‘সাহারা’ (১ সেট) প্রশ্নপত্র দিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়।ঢাকা বিভাগ শিক্ষা বোর্ডে । বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড় উপজেলা জুড়ে ব্যাপক চঞ্চল্যর সৃষ্টি হয়।

ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দায়িত্বে অবহেলার কারণে কেন্দ্র সচিব, হল সুপার ও ট্যাগ অফিসারকে শোকজ (কারণ দর্শানোর নোটিশ) করা হয়েছে। একই সাথে পরীক্ষা কেন্দ্র সচল রাখতে তাৎক্ষণিকভাবে নতুন কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ মে অনুষ্ঠিত উচ্চতর গণিত (সৃজনশীল) পরীক্ষায় চরভদ্রাসন উপজেলায় মোট ৬৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে রোকন উদ্দিন সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের ৩৪ জন পরীক্ষার্থী নির্ধারিত ‘নায়াগ্রা’ (৩ সেট) প্রশ্নপত্রেই সঠিকভাবে পরীক্ষা সম্পন্ন করে। তবে চরভদ্রাসন পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে থাকা বাকি ৩৪ জন পরীক্ষার্থীকে দেওয়া হয় নায়াগ্রা-৩পরিবর্তে ‘সাহারা’ (১ সেট) প্রশ্নপত্র।ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে উচ্চতর গণিত পরীক্ষায় উল্টো নায়াগ্রা-৩ সেট দিয়ে।

চরহাজিগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থী মেহেদী হাসান জানায়, পরীক্ষা শেষে তার এক বন্ধু অন্য কেন্দ্রের প্রশ্নপত্র দেখে বুঝতে পারে যে তারা একই বিষয়ে পড়াশোনা করলেও দুটি কেন্দ্রের প্রশ্ন সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল। বিষয়টি সে তাৎক্ষণিকভাবে তার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুনীল কুমার মণ্ডল কে জানায়।

চরহাজিগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুনীল কুমার মণ্ডল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “শিক্ষার্থী মেহেদী আমাকে বিষয়টি জানানোর পর আমি দেরি না করে তাৎক্ষণিক উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করি। তারা দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন এবং পরবর্তীতে যৎসামান্য ব্যবস্থা নিয়েছেন।”

এ বিষয়ে চরভদ্রাসন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার খন্দকার মাকসুদুর রহমান বলেন, “বিষয়টি জানার পরপরই আমরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করি এবং কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে জানান ।”গতবছর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়েএসএসসি কেন্দে সিসি ক্যামেরা নিয়ে ব্যাপক লেখালেখি হলেও সামান্য শোকোজ পর্যন্তই শেষ। এর কোনো প্রতি উত্তর দেননি।

যোগাযোগ করা হলে ট্যাগ অফিসার (উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা) মোঃ জাহিদ তালুকদার মুঠোফোনে একাধিক বার ফোন দিলে ফোন না ধরায় তার বক্তব্য নেওয়ার সম্ভাব হয়নি।

এব্যাপারে চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সুরাইয়া মমতাজ আজ বৃহস্পতিবার দৈনিক বাংলা কে বলেন, “ঘটনাটি গত ১৭ মে পরীক্ষার দিন ঘটলেও আমরা ১৮ মে বিকালে বিষয়টি জানতে পারি। জানার পরপরই আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সাথে যোগাযোগ করেছি এবং লিখিত চিঠি পাঠিয়েছি। তারা যে প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দিয়েছে, সেই প্রশ্ন অনুযায়ীই তাদের খাতা মূল্যায়ন করে ফলাফল প্রকাশ করা হবে।”

ইউএনও আরও জানান, পরীক্ষা কেন্দ্রে দায়িত্বে অবহেলার কারণে কেন্দ্র সচিব শিক্ষক নজরুল ইসলাম, হল সুপার শিক্ষক মোজাহারুল হক এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার (উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা) মোঃ জাহিদ তালুকদার কে শোকজ করা হয়েছে।
গতবছর এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা ব্যাপারের অনিয়ম পরীক্ষার রেজাল্ট খারাপের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। ও এদেরকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কেন্দ্রের পরীক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে জরুরি ভিত্তিতে নতুন কেন্দ্র সচিব, হল সুপার ও ট্যাগ অফিসার নিয়োগ দিয়ে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয়েছে।

চরভদ্রাসনপাইলট উচ্চ বিদ্যালয় পড়াশোনার এসএসসির পরীক্ষার ফলাফল গত বছর ব্যাপক বিপর্যয় দেখা যায়। যা উপজেলা পর্যায়ে ১৪ টি স্কুলের রেজাল্টের মধ্য মধ্যে সর্বনিম্ন। গত বছরে চরভদ্রাসন পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্র সিসি ক্যামেরা লাগানো নিয়ে ব্যাপক অনিয়ম হলে কেন্দ্র সচিব পরিবর্তন করেছিলেন তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিরা খাতুন।
চরভদ্রাসন পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম কে অফিসে এ প্রতিবেদক এমন গুরুত্বপূর্ণ ভুল করে এর কোন সঠিক উত্তর দিতে পারিনি তিনি আরো জানান, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশ অনুযায়ী কেন্দ্র সচিব অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ব্যবহার করতে পারবে নাআমি সেটা মেনেছি। কিন্তু,,, হল সুপার এবং ট্যাগ অফিসারদের মোবাইলে মেসেজ আসে “কোন সেটে পরীক্ষা হবে এরপরও কেন ভুল করল এটা আমার বোধওবোধগম্য নয়” ।

তবে পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক হিসেবে অত প্রতিষ্ঠানের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুরাইয়া মমতাজকে লিখিত আকারে অবহিত করেছি।তবে কেন্দ্র সচিব নজরুল ইসলাম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পেট ব্যবহার করেনি এর কোন সদ উত্তর দিতে পারেনি ।

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}