ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুহিলপুর ইউনিয়নের ঘাটুরা এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স পার্কিংকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে এক অ্যাম্বুলেন্স চালকের বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলায় নারীসহ অন্তত ৬ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। এসময় বাড়ি ও দোকানে ভাঙচুর চালিয়ে নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কারসহ লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুটের অভিযোগ উঠেছে।মঙ্গলবার (১৯ মে) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে ঘাটুরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উত্তর পাশে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন— হাসান মোল্লা (৪০), ওয়াসিম (২২), শাকিল মোল্লা (৩২), মাসুক (৩৫), শরীফা বেগম (৩৫) ও তানিয়া (২০)। আহতদের উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় অ্যাম্বুলেন্স চালক হাসান মোল্লা বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ১৫-২০ জনকে আসামি করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার আগে হাসপাতালের সামনে অ্যাম্বুলেন্স রাখা নিয়ে স্থানীয় নাহিদ সরকারের সঙ্গে হাসান মোল্লার কথাকাটাকাটি হয়। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে হাসান মোল্লা বাড়িতে চলে যান। অভিযোগ রয়েছে, কিছুক্ষণ পর নাহিদ সরকারের নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত ১০-১২ জন হামলাকারী তাঁর বাড়িতে ঢুকে অতর্কিত হামলা চালায়।হামলায় হাসান মোল্লার মাথায় রামদা দিয়ে কোপ দেওয়া হলে তিনি গুরুতর আহত হন। এছাড়া ওয়াসিমের মাথায় গভীর জখম হয়ে ১৫টি সেলাই লাগে। শাকিল মোল্লার পা ও চোখ এবং মাসুকের পা গুরুতর আহত হয়। হামলা ঠেকাতে গেলে বাড়ির নারীদেরও মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।বাদী হাসান মোল্লার দাবি, হামলাকারীরা ঘরে ঢুকে আলমিরা ভেঙে নগদ ৩ লাখ টাকা ও প্রায় ১৩ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের ৬ ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নেয়। এছাড়া মুদি দোকান ও খাবারের হোটেলে ভাঙচুর চালিয়ে আরও টাকা ও মালামাল নিয়ে যায়। পুরো ঘটনা সিসিটিভি ফুটেজে ধারণ হয়েছে বলেও জানান তিনি।তবে অভিযুক্ত নাহিদ সরকার ও রাজু সরকার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “এটি পার্কিং নিয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা। আমরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলাম না।
আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। আমাদের পক্ষেরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।”ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার এসআই মুফিজুর রহমান জানান, ঘটনার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।