কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে রাতের আধারে এক কৃষকের প্রায় এক লক্ষ টাকা মূল্যের কাকরোল সবজি বাগান কেটে ক্ষতি করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মো. জিল্লু মিয়া (৪৫) বাদী হয়ে ২৪মে বিকালে কুলিয়ারচর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন। ভুক্তভোগী জিল্লু মিয়া উপজেলার গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের উত্তর গোবরিয়া গ্রামের মৃত ফজলু মিয়ার ছেলে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৮ মাস আগে উপজেলার মধ্য গোবরিয়া গ্রামের আবেদ আলীর ছেলে মো. আফজাল হোসেনের কাছ থেকে স্থানীয় সাংবাদিক মোছা. নিলুফা আক্তার নীলা ৩২ হাজার টাকা দিয়ে ২ বছরের জন্য পূর্ব গোবরিয়া কাজীর মোড় সংলগ্ন ২০ শতাংশের একটি আবাদী জমি চুক্তিতে নেন। পরে তিনি জমিটি কৃষক মো. জিল্লু মিয়াকে ভাগে চাষাবাদ করতে দেন। জিল্লু মিয়া ওই জমিতে হাড়ভাঙা খাটুনি দিয়ে কাকরোল সবজির চাষ করে পরিচর্যা করে আসছিলেন। জমির মূল মালিক আফজাল হোসেনের সাথে জমি নিয়ে তার চাচাতো ভাই ফুল মিয়ার পরিবারের বিরোধ চলছিল।
এর জের ধরে কিছুদিন আগে ফুল মিয়ার স্ত্রী মোছা. পরশা আক্তার (৪৫), বোন মোমেনা আক্তার (৪৩) ও ভগ্নিপতি মজলু মিয়া (৪৮) ওই ফসলি জমিতে গিয়ে কৃষক জিল্লু মিয়াকে চাষাবাদ করতে নিষেধ করেন এবং জমি ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। গত ২৩ মে শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে জিল্লু মিয়া প্রতিদিনের মতো তার কাকরোল ক্ষেত দেখে বাড়ি ফিরে যান। পরদিন ২৪ মে রোববার সকাল ৬টার দিকে ক্ষেতে গিয়ে তিনি দেখতে পান, তার রোপণ করা কাকরোল গাছ গোড়া থেকে কেটে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মো. জিল্লু মিয়া বলেন: “পরশা আক্তার, মোমেনা আক্তার ও মজলু মিয়ার কথামতো চাষাবাদ বন্ধ না করায় তারা আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে ও জমির মালিক আফজাল হোসেনের সাথে শত্রুতা করে রাতের আঁধারে আমার সবজি বাগান কেটে প্রায় ১ লক্ষ টাকার ক্ষতি করেছে তারা। আমি এর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।” এব্যাপারে অভিযুক্তদের কারোর সাথে যোগাযোগ করতে না পারায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। এ ব্যাপারে কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দিন লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, কৃষকের ফসলি জমি নষ্ট করার অভিযোগটি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।