কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহসী মাসনাদ অল্প সময়ের দায়িত্ব পালনেই জনবান্ধব প্রশাসনের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। মাত্র আট মাসে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দ্রুত সেবা নিশ্চিত করে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করলেও আকস্মিক বদলির আদেশে উপজেলাজুড়ে আলোচনা ও হতাশা সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি ভূমি অফিসে দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও দালালচক্রের দৌরাত্ম্য কমাতে কঠোর পদক্ষেপ নেন। সরকারি নির্ধারিত ফিতে নামজারি, খারিজ ও অন্যান্য ভূমি সেবা নিশ্চিত করায় সাধারণ মানুষ হয়রানি থেকে অনেকটাই মুক্তি পায়। ফলে ভূমি অফিসে সেবার মান বাড়ার পাশাপাশি জনগণের ভোগান্তিও কমে আসে। সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ ও আবেদন গুরুত্বসহকারে শুনে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করতেন তিনি। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশাসনের প্রতি আস্থা বৃদ্ধি পায়। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষ জানান, আগে একটি নামজারি বা জমি সংক্রান্ত কাজ সম্পন্ন করতে মাসের পর মাস ঘুরতে হতো। কিন্তু বর্তমানে তুলনামূলক কম সময়ে ও অতিরিক্ত অর্থ ছাড়াই সেবা পাওয়া যাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা ইলিয়াস মিয়া বলেন, আগে ভূমি অফিসে একটি কাজ করতে অনেক সময় ও ভোগান্তি পোহাতে হতো।

কিন্তু এসিল্যান্ড স্যার দায়িত্ব নেওয়ার পর পরিস্থিতি বদলে গেছে। আমার নামজারির কাজ খুব দ্রুত ও সহজভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বিধবা নারী আছমা আক্তার বলেন, “জমি সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানের জন্য অনেক জায়গায় ঘুরেছি। পরে এসিল্যান্ড স্যারের সহযোগিতায় দ্রুত সমাধান পেয়েছি। তিনি সাধারণ মানুষের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতেন। শুধু ভূমি অফিস নয়, পৌর প্রশাসকের দায়িত্ব পালনকালেও তিনি দক্ষতা ও সততার পরিচয় দেন। পৌর এলাকার পরিচ্ছন্নতা, নাগরিক সেবা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি আনতে তিনি বিভিন্ন কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এদিকে জানা যায়, গত ১৮ মে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব ইসমাইল হোসেন স্বাক্ষরিত এক পত্রে তার বদলির আদেশ জারি করা হয়।

মাত্র আট মাসের মাথায় এমন বদলির খবরে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সচেতন মহলের মতে, একজন সৎ ও জনবান্ধব কর্মকর্তার বদলি প্রশাসনিক সেবার ধারাবাহিকতায় প্রভাব ফেলতে পারে। এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহসী মাসনাদ বলেন, আমি সবসময় চেষ্টা করেছি সাধারণ মানুষ যেন হয়রানি ছাড়াই সরকারি সেবা পায়। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সততা, স্বচ্ছতা ও মানবিকতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছি।

জনগণের ভালোবাসা ও সহযোগিতাই আমাকে কাজ করার অনুপ্রেরণা দিয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে যেখানে দায়িত্ব দেওয়া হবে, সেখানেই নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাব।

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}