ফরিদপুরের শিল্পী লাইলী আক্তারের জীবন কোনো বাঁধাধরা নিয়মের মধ্যে আবদ্ধ নয়। শহরের হাড়োকান্দি এলাকার মানুষ হলেও তিনি সুরের টানে, মাটির টানে ঘুরে বেড়ান পথে-প্রান্তরে। তার দর্শন হলো— গানই তার ধ্যান, গানই তার প্রার্থনা।

কোনো জাগতিক মোহ বা প্রাপ্তির আশা তাকে কখনো বাঁধতে পারেনি। যে আবেগ ও দরদ দিয়ে তিনি ‘নয়ন ভরা জল গো তোমার আঁচল ভরা ফুল’ কিংবা নজরুলের কালজয়ী গানগুলো খালি কণ্ঠে পরিবেশন করেন, তা যেন তার অন্তরের গভীর উপলব্ধিরই প্রতিচ্ছবি।

লাইলি আক্তারের জীবন এক চরম বাস্তবতার গল্প। বছরের পর বছর জরাজীর্ণ ও বসবাসের অযোগ্য একটি বাড়িতে থেকেছেন। নেই কোনো আধুনিক স্টুডিও বা সুরের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা। কিন্তু তার গায়কির যে পরিচ্ছন্নতা এবং আবেদন, তা বহু প্রশিক্ষিত শিল্পীকেও হার মানায়। তার এই জীবন আমাদের শেখায় যে, সত্যিকারের শিল্পের জন্য দামি উপকরণের চেয়ে আত্মার গভীরতা অনেক বেশি জরুরি।

লাইলী আক্তারের মতো লোকশিল্পীরা আমাদের গ্রামীণ সংস্কৃতির শেকড়। তাদের এই সাধনা ও গুণকে বাঁচিয়ে রাখা সমাজের দায়িত্ব। সম্প্রতি ১২৭তম জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মবার্ষিকীর এক অনুষ্ঠানে তার গাওয়া গান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রীতিমতো আলোড়ন সৃষ্টি করে। নেটিজেনদের ভালোবাসার পাশাপাশি তার প্রতিভার মূল্যায়ন করতে এগিয়ে এসেছে ফরিদপুর জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম লাইলিকে আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি তার বসবাসের জন্য ঘর নির্মাণেরও আশ্বাস দিয়েছেন। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের তরফ থেকেও তাকে সহায়তা প্রদানের প্রক্রিয়া চলছে।

লাইলী আক্তার তার জীবন ও গানের মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন— সব জৌলুসের ঊর্ধ্বে উঠে সাধনায় মগ্ন থাকলেই শিল্প অমরত্ব লাভ করে।

Facebook Comments Box
#wpdevar_comment_1 span,#wpdevar_comment_1 iframe{width:100% !important;} #wpdevar_comment_1 iframe{max-height: 100% !important;}